দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তার চরিত্র হারিয়েছে এবং বিএনপির কোনো চরিত্রই নেই। এখানে দলগুলোর অবস্থান অনেকটাই গৌন। সবকিছুই নেত্রী কেন্দ্রিক। দেশে মূলত দুই নেত্রীর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল চলছে। সে কারণেই সংকট কাটছে না। এই অবস্থার অবসানে সত্যিকার অর্থেই একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান আজ সময়ের দাবি।
রাজনীতিক মাহমুদুর রহমান মান্নার উদ্যোগে সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন ‘নাগরিক ঐক্য’ এর খসড়া ঘোষণা প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেন, ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে এদেশে সংঘাত ছাড়া কোনো সরকারের আমলেই ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি। তিনি বলেন, এটা আজ প্রমাণিত যে বড় দু’টি রাজনৈতিক দল চলমান সংকটের সমাধান করবে না। তারা বরং নানাভাবে সংকটকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ৩০০ জন ভাল মানুষ দরকার, যারা নির্বাচিত হয়ে এসে আমাদের সংকট থেকে উদ্ধার করবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হয় না বলেই দেশ বারবার সঙ্কটের মুখোমুখি হয়। জনগণকে ঠিকমতো বোঝানো গেলে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়ীদ বলেন, কালো টাকার মালিকরা দুই পরিবারকে দেখিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। অথচ জনগণের সঙ্গে এই দুই পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দেশে নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূল কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তৃতীয় শক্তির আজ বড় প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে রাজনীতি হয়, নানা বড় বড় কথা শোনা যায়। কিন্তু কেউই সেটা বাস্তবায়ন করে না। অথচ মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সাম্য ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বর্তমান বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্যতম হলো বৈষম্য। আর সুবিচার তো এখন নির্বাসনে। এই পরিস্থিতির অবসানে দেশে সত্যিই একটি রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি দরকার, যারা মুখে না বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সত্যি সত্যি বাস্তবায়ন করবে।
সেমিনারের সভাপতি নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যেহেতু দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধান দু’টি দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ, তাই বিকল্প যেকোনো শক্তিই তৃতীয় শক্তি হতে পারে। এই প্রধান দুই দলের আচরণে যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে যায়, তাহলে আর কেউ তৃতীয় শক্তির কথা বলবে না। তিনি বলেন, আমরা এখনো দল করার কথা বলছি না, নির্বাচন করার কথা বলছি। কারণ আমরা মনে করি নাগরিক ঐক্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সঙ্কট এতোই তীব্র যে, সংঘাতের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দুই দলের মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা মনে করছি নাগরিক উদ্যোগ খুবই দরকার। এ লক্ষ্যেই আমরা খসড়া ঘোষণাটি প্রকাশ করছি।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের পদত্যাগী সভাপতি এস এম আকরাম, প্রাণী বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি বদরুল চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
