অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার লক্ষ্মী বাউরের জলাবন

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৭
সিলেটের ‘রাতারগুল’ জলাবনের মতই বানিয়াচংয়ের লক্ষ্মী বাউর জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট)। খড়তি নদীর দক্ষিণের বিরাট হাওরে অবস্থিত লক্ষ্মী বাউর জলাবন খড়তির জঙ্গল নামেও পরিচিত। দুর থেকে দেখলে মনে হবে জঙ্গলটি বুঝি জলের উপর ভাসছে। নান্দনিক সৈন্দর্যের এই জঙ্গলের সৃষ্টি রহস্য এখনও অজানা। এই বনে আছে হিজল, কড়চ, বরুণ, কাকুরা, বউল্লা, খাগড়া, চাইল্লা, নলসহ অসংখ্য গাছ-গুল্মে পরিপূর্ণ জঙ্গল। এই জলাবনে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী জীবজন্তু। হবিগঞ্জ সদর থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী বানিয়াচং সদরের আদর্শ বাজার নৌকাঘাট থেকে ৫কিমি উত্তরে হাওরের মাঝে ৩ কিমি এলাকায় এ জলাবনের অবস্থান। বর্ষাকালে কয়েক মাস এ বন নিমজ্জিত। এ সময়ে জলাবন দেখতে নৌকাই ভরসা। শরত্কালে মোটর সাইকেল, ট্রলিসহ হালকা যানবাহন কিংবা হেঁটেই দেখা যায় লক্ষ্মী বাউর জলাবনের নান্দনিক সৈন্দর্য্য। এ বনে গাছ লতাগুল্ম ছাড়াও আছে মেছোবাঘ, শিয়াল, গুইসাপ, কেউটে, লাড্ডুকা, দারাইশসহ বিষধর সাপ এবং আছে বিভিন্ন জাতের বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁস। শীতকালে অতিথি পাখির কাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন। জানা যায়, বানিয়াচং গ্রামের সৈদরটোলাসহ সাত মহল্লাবাসীর নামে ওয়াক্ফকৃত এই জলাবন। এটি তত্ত্বাবধানের জন্য রয়েছে ৯ সদস্যবিশিষ্ট স্থানীয় কমিটি। মোতওয়াল্লী এনামুল হোসেন খান বাহার জানান, এই বনের ইজারা থেকে প্রাপ্ত আয়ে ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং জনহিতকর কাজে ব্যয় হয়। বনটিকে পাখির অভয়ারণ্য করা হয়েছে। প্রতিকুল পরিবেশ ও অব্যাহতভাবে গাছ কাটার কারণে বনের আকার ছোট হয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত ও সরকারের সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লক্ষ্মী বাউর জলাবন এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। এই জলাবনকে পর্যটন স্পটে পরিনত করতে বানিয়াচং থেকে লক্ষ্মী বাউর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক ও লোহাচূড়া নদীর ওপর ব্রিজ এবং কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা প্রয়োজন।