সব ছাপিয়ে মমিনুলের ১৯ রানের আক্ষেপ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৯
মাত্র কয়েক টেস্ট ব্যবধানে টেস্টে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অল্পের জন্য হল না। স্নায়ুচাপের সাথে লড়াই করে ১৮১ রানেই থেমে গেলেন মমিনুল হক। মাথা নিচু করে হতাশা নিয়ে ফিরে আসলেন, চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের দর্শকরা করতালি দিয়ে দারুণ এক ইনিংস খেলা মমিনুলকে অভিবাদন জানালেন। মমিনুলের চোখে-মুখে হতাশা থাকলেও এই ইনিংসের কল্যাণেই বাংলাদেশ চট্টগ্রাম টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের সাত উইকেটে ৩৮০ রান। তিন উইকেট হাতে রেখে সফরকারীদের চেয়ে এখন ৮৯ রানে পিছিয়ে আছে মুশফিকুর রহিমের দল। ব্যাট হাতে মমিনুল যখন ক্রিজে নেমেছিলেন ৮ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ দল। সেই অবস্থান থেকে তুলেছেন দলকে। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়ুব ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে। দ্বিতীয় দিন হাত খুলে খেললেও গতকাল খেলেছেন দেখে শুনে। ২৭৪ বল খেলে করেছেন ১৮১ রান, এর মধ্যে আছে ২৭ টি চারের মার। টেস্টে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। তৃতীয় দিনের দুই উইকেটে ১০৩ রান দিয়ে দিন শুরু করা মার্শাল আইয়ুব ও মমিনুল নিজেদের জুটিকে নিয়ে যান দলীয় ১৩৪ রান পর্যন্ত। এরপর গোটা ইনিংস ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করা মার্শাল আরেক অভিষিক্ত বোলার কোরি অ্যান্ডারসনকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর সাকিব আল হাসানের সাথে জুটি বাঁধেন মমিনুল। সাকিব মাত্র ১৯ রান করে আউট হয়ে গেলে অধিনায়ক মুশফিকের সাথে ১২১ রানের জুটি বাঁধেন মমিনুল। মুশফিক করেন ৬৭ রান। কিন্তু ৩০১ রানে এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেলে দ্রুতই বাংলাদেশের অল আউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। সেই যাত্রায় নাসির হোসেন আর সোহাগ গাজী দলের হাল ধরেন। ৭০ রানের জুটি গড়ে আবারও দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন এই দুই খেলোয়াড়। মারমুখী ব্যাট করতে থাকা নাসির দিনের খেলা শেষ হবার মাত্র তিন ওভার বাকি থাকতে ইশ সোধিকে তুলে মারতে গিয়ে কেন্ উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরে যান সাজ ঘরে। নাসিরের রান তখন ৪৬। বাকি সময়টা স্বচ্ছন্দেই কাটিয়ে দেন সোহাগ গাজী ও আব্দুর রাজ্জাক। গাজী ২৮ ও রাজ্জাক ১ রানে অপরাজিত আছেন। মমিনুলের শতকে নিজ জেলা কক্সবাজারে উল্লাস কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, প্রথমবারের মত গত বছরের ২ ডিসেম্বর জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন কক্সবাজারের ছেলে মমিনুল হক সৌরভ। সাকিব আল হাসানের বদলী হিসাবে মাত্র ১০ মাস আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওয়ানডে স্কোয়াডে ঠাঁই পাওয়া মমিনুল এখন টেস্ট স্কোয়াডেরও সদস্য। গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের রীতিমত ঘাম ঝরিয়ে অভিষেক শতকের দেখা পান। স্পর্শ করেন দেড়শত রানের মাইলফলক। তার এ কৃতিত্বে গতকাল কক্সবাজারে ছিল আনন্দ উল্লাস। শহরের বিভিন্ন গলিতে উত্সাহী কিশোর-যুবকরা গতকাল মিছিল বের করে মমিনুলের ছবি নিয়ে। কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জসিমউদ্দিন জানান, মমিনুলের খেলা দেখতে গত দুইদিন টিভি সেটের সামনে হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দরিদ্র লোকজনও রাস্তার পাশে ইলেকট্রনিক দোকানের সামনে বেশ ভিড় করে আর মমিনুল রান নিলেই তালি দিয়ে তাকে ‘অভিবাদন’ জানায়। মমিনুল হক সৌরভের বাড়ি কক্সবাজার শহরের বৈদ্যঘোনায়। বাবা নাজমুল হক একজন চাকরিজীবী, মা মালেকা জয়নাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।