ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব। উত্সব মানেই আনন্দ, আর আনন্দ মানেই সাজসজ্জা। কিন্তু যেকোনো সাজের আগেই বুঝতে হবে উপলক্ষ, সময়, পরিবেশ, পরিস্থিতি, পোশাকের ধরন, চেহারার গড়ন এবং যা আপনি চাইছেন তা আপনার জন্য কতটা উপযুক্ত, সব মিলিয়ে আপনি নিজে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন—এ সবকিছু বিবেচনা করেই নিজেকে সাজিয়ে তুলুন। মনে রাখবেন সব সময় মেকআপের উদ্দেশ্য কিন্তু পরিবর্তিত চেহারা বা নিজেকে বদলে ফেলা নয়। নিজের চেহারার দোষত্রুটিকে আড়াল করে লুকিয়ে থাকা সুন্দরকে বের করে আনাই মেকআপের উদ্দেশ্য। সাজসজ্জার ক্ষেত্রে নিজের ভালোলাগার পাশাপাশি অন্যের পছন্দকেই সমান গুরুত্ব দিন। মনে রাখবেন আপনার মন থেকে আসা ঠোঁটের মিষ্টি একচিলতে হাসি হাজার কারেকটিভ মেকআপকে হার মানিয়ে আপনাকে করে তুলতে পারে অসাধারণ অপরূপা। ঈদ যেহেতু ধর্মীয় উত্সব। তাই আমার মনে হয় সাজের সজীবতা বা ফ্রেসলুকই যথেষ্ট। অতিরঞ্জিত মেকআপ নয়। সময়টা গরম, আবার মাঝে মাঝে ঠাণ্ডা হাওয়া শীতের আগমনও মনে করিয়ে দেয়, তাই সাজ হওয়া চাই বুঝেশুনে।
ঈদের সাজে বেজটা কেমন হবে
ঈদের সাজে ন্যাচারাল মেকআপই ভালো লাগবে। দিনের বেলায় হালকা ময়েশ্চার লাগানোর পর কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন। এ ছাড়া টিনটেড ময়েশ্চারও লাগাতে পারেন। এক্ষেত্রে ন্যাচারাল লুক বজায় থাকবে। রাতের বেলা বা বিকেলের সাজে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে লিক্যুইড ক্রিম ওয়াটার বেজড ফাউন্ডেশন কপাল, নাক, পুরোমুখ ও গলায় লাগিয়ে ভেজা পঞ্জ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ত্বকে যদি দাগ থাকে সেক্ষেত্রে প্রথমে কনসিলার বা ত্বকের রঙের চেয়ে একশেড হালকা ফাউন্ডেশন দাগগুলোর ওপর দিয়ে আঙুলের সাহায্যে মিলিয়ে নিন। তারপর কমপ্যাক্ট পাউডার এবং ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন বেজ মেকআপ করার সময় আপনার চোখের পাতার ওপরের অংশ, কান ও গলা এবং হাত কখনোই যেন আপনার সাজে উপেক্ষিত না থাকে।
চোখ আকর্ষণীয় করে তুলতে
চোখ মনের আয়না। মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য এতে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হয়। আপনার চোখকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করতে পারেন কনট্যাক্ট লেন্স। বাদামি, পেন্সিল বা আইশ্যাডো দিয়ে ভ্রুটা সুন্দর করে এঁকে নিন। দিনের সাজের ক্ষেত্রে হালকা রঙের আইশ্যাডো দিতে পারেন আপনার চোখ। যেমন—ব্রোঞ্জ, গোলাপি, লালচে, সোনালি। রাতের সাজে চলতে পারে পোশাকের সাথে মানানসই যেকোনো আইশ্যাডো কাজল দিয়ে পুরো চোখটা এঁকে নিন। চোখ বড় ও আকর্ষণীয় দেখাতে মাশকারা লাগান। চোখের সাজ শেষ করুন চোখকে হাইলাইট করার মধ্য দিয়ে। কাজল হালকা করে আঙুল দিয়ে ঘষে নিন। কাজল যাতে ছড়িয়ে না যায় তাই কাজলের ওপর দিতে পারেন হালকা পাউডার বা কালার শ্যাডো (কালো)।
ব্লাশন
ব্লাশটা যেন ভালোভাবে বেন্ড হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। দিনের সাজে ব্লাশটা অবশ্যই হালকা হওয়া চাই। শুধু গালে একটা রাঙা আভা ছড়ানোর জন্য। আপনি যদি ফর্সা হয়ে থাকেন, তবে হালকা গোলাাপি বা পিচ এবং আপনার গাঢ় রঙ যদি শ্যামবর্ণ হয় সেক্ষেত্রে ব্রোঞ্জ, বাদামি বা একটু গাঢ় গোলাপি ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন ব্লাশটা যেন আপনার সাজের সাথে সুন্দরভাবে মিলে যায়। ব্লাশ দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন বেশি গাঢ় হয়ে ব্লাশ যেন ছড়িয়ে না যায়। আপনার গালের হাড়ের ওপর ব্লাশ দিয়ে ব্লাশন লাগাবেন।
লিপস্টিক
দিনের সাজের ক্ষেত্রে হালকা লিপস্টিকই ভালো। চোখকে হাইলাইট করতে চাইলে ঠোঁট হালকা রাখুন। গোলাপি, পিচ, পিংক ও বাদামি রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করে ওপরে গ্লস লাগাতে পারেন। অথবা ঠোঁটে শুধু গোলাপি, লালচে ও চকলেট লিপগ্লস লাগাতে পারেন।
চুল
চুল আপনার সাজের একটি বড় অংশ। ঈদের একসপ্তাহ আগেই চুল কাটুন। ঈদের আগেরদিন অবশ্যই চুলে শ্যাম্পু, কন্ডিশনিং করে রাখবেন। চুল ঝরঝরে সজীব রাখতে কোনো হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। এই ঈদের সাজে বেণীর সমন্বয়ে খোঁপা, বেণী বা খোলা চুলও রাখতে পারেন। বেণীর সমন্বয়ে করুন, আপনাকে মানাবেও এবং বিরক্তির কারণও হবে না আপনার চুলের সাজ। যেকোনো পোশাকের সাথেই তা মানাবে শুধু ঈদের আগেই বুঝে নিন কিভাবে চুলটি সেট করলে আপনাকে মানাবে।
সুগন্ধি
সুগন্ধির ব্যবহার একটু বুঝেশুনে করা প্রয়োজন। কেননা সুগন্ধি মনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই কোনটি আপনার জন্য প্রযোজ্য তা বুঝে ব্যবহার করুন। যেমন গোলাপ এবং চন্দন (নার্ভাসনেস, টেনশন এবং উদ্বেগ কমায়) রোজমেরী উদ্দীপক করে, ল্যাভেন্ডার রিলাক্স করে এবং অ্যালার্জি বাড়ায়। লেমন গ্রাস মন সজীব করে। নিজের ভালোলাগা এবং গুণাগুণ বিবেচনা করে সুগন্ধি ব্যবহার করুন। যেহেতু আবহাওয়া গরম তাই হালকা সুগন্ধি উপযুক্ত হবে।
সতর্কতা
বাইরে বের হলে প্রয়োজনীয় সবকিছু সঙ্গে রাখুন। এই ঈদে যেহেতু মাংসই প্রধান খাবার, তাই খেতে তো হবেই কিন্তু কম খাওয়াই ভালো। পাশাপাশি পানি, জুস, সবজি খেতে চেষ্টা করুন। এ সময় একটু হাঁটাহাঁটি করলে ভালো। শরীরের ভেতরের টক্সিন বের হতে সাহায্য করবে।
ঈদের এই বিশেষ আয়োজনে পাঠকদের জন্য ঈদের সাজ নিয়ে লিখেছেন
তানজিমা শারমিন মিউনী
বিউটি এক্সপার্ট ও স্বত্ত্বাধিকারী
হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
