ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর অঞ্চলে ষাঁঁড় দৌড়/ গরুর লড়াই বেশ জনপ্রিয়। এ লড়াইকে ঘিরে বছরে একবার উত্সবের আমেজ বিরাজ করে এলাকায। শুকনো মৌসুমে এ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। এ লড়াই এ অঞ্চলের শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বা লিখিত কোন তথ্য-প্রমাণ নেই তবে খেলাটি যে অনুষ্ঠিত হত তা এক প্রকার নিশ্চিত। কেননা সাম্প্রতিক সময়গুলোতেও এ সকল অঞ্চলে ষাঁড় দৌড়/ গরুর লড়াই অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এলাকার মুরুব্বীরা বলেছেন, বংশ পরম্পরায় তারা এ ধরনের খেলার কথা শুনেছেন। দুই গ্রাম বা দুই পাড়ার মধ্যে এ ধরনের খেলার আয়োজন করা হতো। হেমন্তের ধান কাটার পর খালি জমিতে এই খেলা অনুষ্ঠিত হতো। সমস্ত এলাকার লোকজন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী গরুটিকে সুন্দর করে সাজিয়ে ঢোল বাদ্য সহকারে শোভাযাত্রা নিয়ে প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত হতো। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দলকে পুরস্কৃত করা হতো। ষাঁড়ের লড়াইয়ের অংশগ্রহণের জন্য একটি বা একাধিক ষাঁড়কে বছরব্যাপী পরিচর্যা করা হয়। ষাঁড়ের শিং ধারালো করা হয়। তারপর নির্দিষ্ট দিনে যখন প্রতিযোগিতায় নামানো হয় তখন অপর ষাঁড়টির মৃত্যু বা চূড়ান্ত রকমের অসুস্থ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলতে থাকে। এ ধরনের লড়াই পশু নির্যাতনের শামিল। গরুর দৌড় ব্যতিক্রম প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠানে হয়। জোড়া বদলের সঙ্গে মই যুক্ত করে একজন লোক সেই মইয়ের উপর দাঁড়িয়ে থেকে দৌড়ে অংশগ্রহণ করে। চালক লোকটি একহাতে গরুর রশি অন্য হাতে পাচন ধারণ করত। পূর্বে কয়েকজোড়া গরুকে একসঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ করানো হত।
