লাখাই-নাসিরনগর-সরাইল সড়ক বিল আকাশীর বুক দিয়ে নির্মাণ হওয়ায় হাওর বেষ্টিত কুন্ডা-পুটিয়া খেয়াঘাট এখন আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দে পরিণত হয়েছে। একে ঘিরে প্রতিদিন অসংখ্য প্রকৃতি-প্রেমিক উপভোগ করছে হাওরের মনোরম পরিবেশ। এ বিল ৬ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকে আর ৬ মাস শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করে। শুষ্ক মৌসুমে বিল আকাশী সবুজের সমারোহ আর বর্ষার মৌসুমে বন্যার পানিতে থৈ থৈ করে। এসময় মনে হবে এ যেন বিল নয় বিশাল এক সমুদ্র । দু’পাশে পানি আর পানি। তীরের ন্যায় সড়কের গোড়ায় এসে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। শোঁ শোঁ বাতাস সবমিলিয়ে মন উত্তাল করার মত পরিবেশ। হাওরের জলে সাঁতার কেটে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে প্রাণ জুড়ান সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষ। মাঝে মাঝে রাস্তায় ছোট বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পা ভিজে যায়। এ মনোরম দৃশ্য দেখতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া শহরসহ বিভিন্ন এলাকার অনেক দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিনোদন-পিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছে।
ভ্রমণপিয়াসী মানুষ অবসরে নির্মল আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। আর এই টানেই শত শত মানুষের ঢল নামে বিল আকাশীর বুকে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে এখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসে রিকশা, মোটর সাইকেল, সি.এন.জি, মাইক্রোবাস, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আবার কেউ বা আসে পায়ে হেঁটে। বিল আকাশী, বিল শাপলা,বিল উরল নামে হাওর বেষ্টিতর মধ্যদিয়ে নির্মিত হয়েছে লাখাই-নাসিরনগর-সরাইল সড়ক। নাসিরনগরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নকল্পে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মোঃ ছায়েদুল হকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ সড়কটি নির্মাণ হয়। অথচ একসময় বর্ষাকালে বিল আকাশী ছিল অথই সমুদে্রর মত। এখন বদলে গেছে এর দশপট। বর্তমানে রাস্তার দু্ই পাশে থৈ থৈ পানি মাঝে পিচঢালা পথ। দেখে মনে হবে এ পথটি যেন পানিতে ভাসছে। দূরে-দূরে দেখা যাচ্ছে ছোট ছোট গ্রাম যা দেখতে অনেকটা দ্বীপের মত আর বিকেলে স্নিগ্ধ বাতাস, দোলায়িত ঢেউ, নৌকায় ঘোরাঘুরি আর শেষ বিকেলের সূর্যাস্ত এ যেন এক অপরূপ দৃশ্য, যা দেখতে ভালই লাগে। ফলে দর্শকদের ভিড়ে বিল আকাশী মুখরিত হয়ে উঠেছে। ১ কিলোমিটার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় লোক সমাগম হয় বেশি। উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরাই আসে বেশি। অনেকের মতে এটি প্রেম নিবেদনের নিরাপদ স্থান। রাস্তার দু’পাশে ব্লকের উপর জোড়ায়-জোড়ায় বসে আবার কোথাও দলবেধে ছেলে-মেয়েরা বসে গল্প-গুজব করে। আবার কেউ কেউ লাফিয়ে পানিতে পড়ে সাতার কাটে।
