রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৮
১৯৫২ সালের মহান একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা এই জন্য যে, পৃথিবীর ইতিহাসে কোন জাতি মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য এমনভাবে রক্তদান করেনি। আরো অধিক গুরুত্বপূর্ণ এই জন্য যে, মাতৃভাষা আন্দোলনকে কেন্দ করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম বাংলাদেশ ছাড়া এর নজির পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোথাও নেই। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্ব রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৫২ সালের এই মহান একুশে ফেব্রুয়ারিকে সমগ্র বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। এটাও বাংলাদেশের জন্য কম গৌরবের কথা নয়। তাছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্যও একটি বিরাট গৌরবের বিষয় এই যে, ৫২’র রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নায়ক আজকের জাতীয় নেতা অলি আহাদের জন্মস্থানও এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। অলি আহাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণেই ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এই ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার ফলেই সংঘটিত হয় একুশে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক ঘটনা। এখানে আরও উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের জনক এবং গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান সফরে এসে ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় যখন ঘোষণা করেন যে, `Urdu and Urdu shall be the state language of pakistan© সে সময় রেসকোর্স ময়দানের এক প্রান্তে সহপাঠীদের নিয়ে দাঁড়ানো এই অলি আহাদই প্রথম `No No© বলে প্রতিবাদ করেছিলেন।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের তত্কালীন সাহসী সংগ্রামী ছাত্রনেতা সামিউল আহাম্মদ খান ফটিক, যিনি ছিলেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি ১৯৯৭ সালে ‘অনেক স্মৃতি অনেক কথা’ শিরোনামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। শ্রদ্ধেয় ফটিক ভাই এ গ্রন্থ লেখার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাষা-আন্দোলন এবং অন্যান্য বহু বিষয়ে আমার কাছ থেকে তথ্য নিয়েছেন যা তিনি তার গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। শ্রদ্ধেয় ফটিক ভাই যতটুকু তার পক্ষে সম্ভব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাষা আন্দোলনের মূল ঘটনাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরেছেন। এ মহত্ কাজটির জন্য তাকে আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তার গ্রন্থে যে সকল ভুল তথ্য রয়েছে আমি সংশোধন করে দেব। আমি মূল বিষয়ে অর্থাত্ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গে আসছি। এর আগে বিনয়ের সাথে একটি কথা বলে রাখছি, আর তা হচ্ছে, দীর্ঘদিন আগের ঘটনা প্রবাহের সব স্মৃতিই ধরে রাখা যায় না। তবে কিছু কিছু ঘটনা যা সব সময়ই স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে বিরাজ করতে থাকে।