ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখতে পথে নেমেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। কিন্তু তাতে দুর্ভোগ-দুর্গতির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ঈদ-যাত্রীরা। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, সড়কপথে যানজটের মহামারী এবং নৌপথে লঞ্চের ডেক এবং ছাদে গাদাগাদি ভিড়ের যন্ত্রণা সয়েই বাড়ি ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। ৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে অনেকেরই ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পথেই থাকতে হচ্ছে। এতসব বিপত্তি সত্ত্বেও অনেকটাই খালি হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা। নগরীর নিয়মিত বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ গত চারদিনে যে যার মতো ঈদ করতে শেকড়ের টানে গ্রামে-গঞ্জে পাড়ি জমিয়েছেন।
ঘরমুখো মানুষের ভিড় এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহাসড়কে শুরু হওয়া যানজট গতকাল পর্যন্তও অব্যাহত ছিল। তবে কোনো কোনো স্থানে সড়ক ব্যবস্থাপনার সাময়িক উন্নতির ফলে যানজট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তারপরও মহাসড়কের দীর্ঘ জটলা এলোমেলো করে দিয়েছে দূরপাল্লার সড়ক পরিবহনগুলোর নির্ধারিত সিডিউল। যানজটের কারণে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার বাস ঢাকায় এসে পৌঁছাচ্ছে অনেক দেরিতে। সে কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়ে যাচ্ছে এসব বাস। আর ততক্ষণে কাউন্টারে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের একেবারে ত্রাহি অবস্থা। ঘরমুখো যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ নিজ চোখে দেখার জন্য যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা। এ সময় তিনি দুর্ভোগের জন্য দু:খ প্রকাশ করেন। সকাল ১০টা ২০ মিনিটে তিনি টার্মিনালে পৌঁছান। উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা সত্ত্বেও মানুষের যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। দুর্ভোগ যে হচ্ছে না, এমনটিও নয়। আমি দুর্ভোগ ও কষ্টের জন্য সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকা থাকার জন্য বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তাদের কাছেও আমি বিশেষভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য সরকার বিআরটিসির বহরে অতিরিক্ত ৬০টি বাস প্রস্তুত রেখেছে। যখনই মালিক সমিতি গাড়ি চাইবে, এগুলো টার্মিনালে পৌঁছে যাবে। তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে প্রথম নবীনগর-চন্দ্রা সড়কে চারলেনের কাজ শুরু হয়েছিল। এই কাজ এখন শেষের পথে। শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করবেন।
অন্যদিকে ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি রুটে। ঢাকার দিক থেকে যাওয়া যানবাহনগুলো মাওয়া ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ছে। এ কারণে যাত্রীদের অনেকেই তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছে লঞ্চ কিংবা স্পিডবোটে পার হচ্ছেন। যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধির সুযোগে লঞ্চ ও স্পিডবোটের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
অনেকেই অভিযোগ করেন যে, কমলাপুর স্টেশনে গতকালও কালোবাজারিরা প্রকাশ্যে বেশি দামে ট্রেনের টিকিট বিক্রি করছে। এ সময় স্টেশন পরিদর্শনে আসা রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ঘড়ির কাঁটা দেখে ট্রেন ছাড়া যাবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই ট্রেন ছাড়তে হচ্ছে। সে কারণেই দেরি হয় বলে জানান তিনি। তবে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
