ঈদ আয়োজনে ব্যস্ত তরুণ-তরুণীরা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৮
রাজধানীসহ সারাদেশে এখন চলছে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি। আর এই কর্মকাণ্ডের পুরোভাগে রয়েছে তরুণ-তরুণীরা। হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কেনা, পশু নিয়ে হৈ-হুল্লোড় করে হেঁটে হেঁটে বাড়িতে ফেরা, মার্কেট-শপিংমলে নতুন পোশাক কেনা থেকে শুরু করে সব কাজেই নেতৃত্ব দিচ্ছে ওরা। অনেকে আবার ঈদের ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সবমিলিয়ে ঈদ ঘিরে তারুণ্যের ব্যস্ততা এখন বেড়ে গেছে। তরুণদের বক্তব্য, বাজার ঘুরে গরু বা ছাগল কেনার মজাই অন্য রকম। তবে এ মজাটা বিপদের কারণ হতে পারে। সেজন্য পশুর হাটে বৃদ্ধ লোকদের দেখা মিলে না। দেখা মেলে তরুণদের। গতকাল রবিবার রাজধানীর কয়েকটি গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, তরুণরা কতটা ব্যস্ত এই সময়ে। রাজধানীর আগারগাঁও পশুর হাটে গরু কিনতে এসেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী অনিক। অনিক জানান, ‘প্রতি বছরই এই বাজার থেকেই আমি পরিবারের কোরবানির গরু কিনি। আর সবাই সেটা পছন্দও করে।’ এবারের ঈদে নিজের ব্যস্ততার কথা তুলে ধরে এই তরুণ জানান, ‘১৭ অক্টোবর ছোট বোনের বিয়ে। এ কারণে ঈদের কোনাকাটা থেকে শুরু করে আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব সবই আমার। আর এ কাজে কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতা নিচ্ছি।’ গত মাসে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আরমান। গতকাল এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘এবার কোরবানির ঈদের মতো এত ব্যস্ততা আমার কখনোই হয়নি। সব দায়িত্ব এসে পড়েছে আমার ওপর। অন্যদিকে নতুন চাকরি হওয়ায় বেতন-বোনাস পেয়ে বাজারে গিয়ে সবার জন্য কোনাকাটাও করতে হচ্ছে আমাকেই।’ এবারের ঈদের ব্যস্ততা নিয়ে তরুণী আফিয়া আখতার জানান, ‘বড় ভাইয়ের দায়িত্ব কোরবানির পশু কেনার। আর সবার জন্য জামা-কাপড় কেনার দায়িত্ব আমার। বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়ার। তাই প্রতিটি মুহূর্তই কাটছে ভিষণ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে।’ এদিকে ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে অন্য বন্ধুর বাড়ি বা কোন পর্যটন এলাকায় বেড়াতে পছন্দ করেন অনেকেই। এই সব তরুণের বক্তব্য- সব ঈদেই তো মা-বাবার সাথে থাকি। একটা ঈদে না-ই থাকলাম। এবার ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছেন রফিক। তিনি বললেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি পাওয়া যায় না। তাই সবার ছুটি একই সাথে হওয়ায় এই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাই না।’ ঢাকার একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবি ঈদের ছুটি বাবা-মায়ের সাথেই কাটাতে চান। রবির বক্তব্য, এই ছুটি আমাদের সবার জন্য। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এ সময় বাড়িতে আসবে। এ কারণে সুযোগটা নষ্ট করতে চাই না। অন্যদিকে ঈদে নতুন পোশাক কেনাকাটা ও সাজ-সজ্জা নিয়ে ব্যস্ততা থাকে অধিকাংশ তরুণীর। নতুন ডিজাইনের জামা-কাপড় কিনতে অনেকটা সময় ব্যয় করেন তারা। তাই ফ্যাশন হাউজগুলোতে তরুণীদের ভিড়ই বেশি হয়। তাছাড়া ঈদের আগের রাতে হাতে মেহেদী লাগাতে ভোলেন না কোন তরুণীই। এ নিয়েও তাদের এখন ব্যস্ততা কম নয়।