পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দ্বিগুণ টোল আদায়, বিশৃঙ্খলা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২১
কোন রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে যানবাহনের টোল দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে গতকাল রবিবারও বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ যানবাহনকে ফ্লাইওভার ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকটি বাস ও মিনিবাস ফ্লাইওভারে উঠতে গেলে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে চালক-হেলপারদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ফ্লাইওভারে ঢুকতে না দিয়ে ঐ সব যানবাহনকে ফেরত পাঠিয়ে দেন টোলকর্মীরা। এরপর বাস মিনিবাস ও ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ফ্লাইওভারে না উঠে নিচ দিয়ে চলাচল শুরু করে। যানবাহন মালিক ও চালকরা অভিযোগ করেন, বাস-মিনিবাসসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য ফ্লাইভারে যে টোল নির্ধারিত ছিল, তা হঠাত্ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। ট্রাক ও বাস এর টোল পূর্বনির্ধারিত ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৬০ টাকা, মিনিবাস ১৩০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা, জীপ ও প্রাইভেট কার ৩৫ টাকার স্থলে ৬০ টাকা, মোটরসাইকেল ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা এবং মাইক্রোবাস এর টোল ৫০ টাকার স্থলে ৮৫ টাকা করা হয়েছে। যা চালক বা মালিকরা জানতেন না। এ জন্য গণমাধ্যমে কোন বিজ্ঞাপনও প্রকাশ করা হয়নি। ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর নতুন এই রেট চালু করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এটা কি ‘মগের মুল্লুক?’ টোল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে রেট বৃদ্ধি করলেও একবার বিষয়টি সংবাদপত্র কিংবা ইলেট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ করে জানানোর প্রয়োজন বোধ করলেন না!’’ এ জন্য যানবাহন মালিক ও চালকরা প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তাকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি চক্র ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই হঠাত্ নতুন টোল রেট চালু করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। ওই এলাকায় কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা একই মত পোষণ করে বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে এই সড়কে যানবাহন চলাচলে চরম অব্যবস্থাপনা ছিল। এখন ফ্লাইওভার উদ্বোধনের পর নতুন করে টোল আদায়ের রেট নিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। হঠাত্ টোল বৃদ্ধি সম্পর্কে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক ও সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) এর সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় দুই দফায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।