ভারতে ঘূর্ণিঝড় পাইলিনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার তত্পরতা শুরু

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় পাইলিন ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে রাতভর ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও মৃত্যু এড়ানো গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, সঠিক পূর্বাভাস এবং সাবধানতা নেয়ায় প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই উদ্ধার তত্পরতা শুরু হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি’র। লণ্ডভণ্ড উড়িষ্যায় এখন চলছে উদ্ধারের কাজ। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সদস্যদের সমন্বয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি দল উদ্ধার কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে। গোপালপুরে প্রচণ্ড হাওয়ায় বাড়ি-ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। রাস্তাঘাট অন্ধকার হয়ে গেছে। বহু মানুষকে উপকূলীয় এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও গবাদিপশু রক্ষার কোন ব্যবস্থা না করায় অনেকে তাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইছেন না। গতকাল সকাল ৮টার পর থেকে ভুবনেশ্বরে রোদ উঠেছে। ফোনের নেটওয়ার্কও মিলছে। অবশ্য উড়িষ্যার অন্তত পাঁচটা জেলা এখনো বিছিন্ন। পুরীতে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস চলছিল। উড়িষ্যার অধিকাংশ জায়গার বিদ্যুত্ সংযোগ ছিন্ন করা হয়েছে। অন্ধ্রে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী গ্রিড। অন্ধ্রের তিনটি জেলা এবং উপকূলীয় উড়িষ্যার কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শুরু হয়েছে। ওডিসার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুনর্বাসন কার্যক্রম হবে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব মন্ত্রী জানিয়েছেন, এই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চারশ’ কোটি রুপির বেশি। লাখ লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক এলএস রাঠোর এক সংবাদ সম্মেলনে শূন্য প্রাণহানির দাবি করেছেন। রাঠোর বলেন, ঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস এবং সেইমত তিনদিন ধরে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার ফলে প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। উড়িষ্যায় গাছ চাপা পড়ে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর প্রতি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নিক এজেন্সিগুলো। ভারতের দুর্যোগ মোকাবেলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে ঝড়ের সময় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের কাছে গভীর সাগরে বিদেশি ১৮ নাবিক নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে যায়। পরে জাহাজটির সন্ধান পাওয়া যায়। নাবিকরা সবাই নিরাপদে আছেন। ঘূর্ণিঝড় পাইলিন শনিবার ভারতীয় সময় রাত সোয়া নয়টার দিকে উড়িষ্যার উপকূলীয় গ্রাম গোপালপুরে প্রথম আঘাত হানে। রাঠোর জানান, ঘূর্ণিঝড়টি যখন গোপালপুরে আঘাত হানে তখন এর আওতায় বাতাসের গতি ছিল ঘন্টায় ২০০ হতে ২১০ কিলোমিটার।