তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার কারখানার মধ্যে প্রায় সব কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি কারখানা বাদে সব কারখানায় বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে গার্মেন্টস কারখানায় শ্রম পরিস্থিতি জানাতে এ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
অবশ্য শ্রমিক নেতাদের দাবি, গতকাল পর্যন্ত বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ২টি কারখানা ও সদস্য বহির্ভূত ৫ থেকে ৬টি কারখানায় শ্রমিকদের যথাযথ পাওনা পরিশোধ না করায় অসন্তোষ ছিল। শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, আশুলিয়ার ‘লিবার্টি ফ্যাশন’ ও মিরপুরের দুটি কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা ঠিকভাবে পরিশোধ না করায় অসন্তোষ ছিল। বিজিএমইএ’র সদস্য বহির্ভূত রাজধানীর কয়েকটি নন-কমপ্লায়েন্ট কারখানায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়নি। তবে বিগত ঈদের তুলনায় এবার বেতন-ভাতা পরিশোধ নিয়ে অসন্তোষ কম হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, আমাদের জানামতে প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন-ভাতা দিয়ে ঈদের ছুটি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০টি কারখানায় কিছু সমস্যা মোকাবিলা করেছি। কয়েকটি কারখানা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে বেতন-ভাতা প্রদানে দেরি করায় এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে আশুলিয়ার জিরানীবাজার এলাকার ‘লিবার্টি ফ্যাশন’ ও রাজধানীর বাড্ডার ‘তুবা গ্রুপের’ শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের জন্য আন্দোলন করে আসছিল। উল্লেখ্য, লিবার্টি ফ্যাশনে ক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকো ভবনের কাঠামোগত ত্রুটির কথা বলে অর্ডার বন্ধ করে দেয়। অন্য ক্রেতারাও এই প্রতিষ্ঠানে অর্ডার বন্ধ করে। মান্নান কচি বলেন, লিবার্টি ফ্যাশন ও মিরপুর এলাকার দুটি কারখানায় অর্ডার স্বল্পতার কারণে বেতন-ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রে দেরি হয়েছে। আর তুবা গ্রুপ শ্রমিকদের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে এক পর্যায়ে মেশিন বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করেছে। উল্লেখ্য, এই তুবা গ্রুপের একটি কারখানা সাভারের তাজরীনে গত নভেম্বরে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দেলোয়ার হোসেনকে গত শনিবার রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত শ্রমিকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রম অসন্তোষের সম্ভাবনা রয়েছে এমন প্রায় ১ হাজারটি ছোট ও মাঝারি কারখানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণসহ ১ হাজার ১৪৫টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ’র পরিচালকদের সমন্বয়ে ৯টি অঞ্চলভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও সমন্বয় সেলের নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে।
