‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৪
আগামী ১৬ অক্টোবর পহেলা কার্তিক, বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১২৩তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া লালন আখড়াবাড়িতে কাল থেকে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী লালন স্মরণোত্সব। এবার উত্সবের শিরোনাম করা হয়েছে ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। তবে ঈদের দিন পহেলা কার্তিক হওয়ায় একদিন পর অর্থাত্ ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উত্সবের উদ্বোধন হবে। সন্ধ্যা ৭টায় স্মরণোত্সব উদ্বোধন করবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। অবশ্য পহেলা কার্তিক সন্ধ্যায় উত্সব শুরু উপলক্ষে বাউল ও লালন ভক্তদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উত্সব চলাকালে সাঁইজির মাজারের সামনে মরাকালী নদীর তীরে লালন মঞ্চে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হবে লালন সংগীত, লালন গবেষকদের নিয়ে আলোচনা সভা ও লালন মেলা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই উত্সবে যোগ দেন অগণিত লালন ভক্ত। ইতিমধ্যে লালন ভক্ত ও শিষ্যরা আসতে শুরু করেছেন আখড়াবাড়িতে। পুরো আখড়াবাড়ি ভক্ত-শিষ্যদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। লালন ভক্তদের মতে, ১১৬ বছর বয়সে বাংলা ১২৯৭ সনের পহেলা কার্তিক, ইংরেজি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর ফকির লালন সাঁই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লালনের জন্মস্থান নিয়ে নানা মত থাকলেও নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলার এক ক্রান্তিকালে তিনি জন্মেছিলেন সংস্কার-জাতপাত ও শাস্ত্রশাসিত এক ধর্মান্ধ সমাজে। তত্কালীন ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠির নির্মম অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষ যখন জর্জরিত, ঠিক সেই সময় সত্যের পথ ধরে, ‘মানুষ গুরু’র দিক্ষা দিতে মানবতার পথ প্রদর্শক হয়ে কুমারখালির ছেঁউড়িয়াতে ফকির লালন সাঁই’র আবির্ভাব ঘটে। তিনি আপন অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি ও চেতনার মধ্য দিয়ে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শক্তির অর্চনা করে তিনি হয়ে উঠেন নিগৃহীত-নিম্নবর্ণের মানুষের ‘পরমপুরুষ’।