রাখে আল্লাহ মারে কে!

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৭
দশ মাস দশ দিন পেটে ধারণ করেছেন অজানা এক মা । কিন্তু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর, হয়তো কোন কারণে অথবা ভরণ পোষণের সামর্থ্য ছিল না এই মায়ের। এ অবস্থায় সকল মায়া-মমতা বিসর্জন দিয়ে ‘নাড়ি ছেঁড়া’ ২-৩ দিন বয়সী ফুটফুটে ছেলে শিশুকে ফেলে দিয়েছিলেন ময়লা ডাস্টবিনে। শরীরে মাখানো ছিল শুকিয়ে যাওয়া রক্ত, মাটি। পেঁচানো ছিল ময়লা ওড়না । আর অসংখ্য মশার কামড়ে ফোলা ছিল শরীরের অনেকটা অংশ। এরই মধ্যে মহল্লার বেওয়ারিশ কুকুরগুলো ময়লার মধ্যে খাবার খুঁজছিল। কিন্তু এতো কিছুর পরও বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা। এক পর্যায়ে মৃত্যু পথযাত্রী শিশুটি কেঁদে ওঠে। আর কান্নার আওয়াজে জড়ো হয় লোকজন । শেষটায় মীম আক্তার নামে এক গৃহবধূ ছুটে এসে পরম মমতায় শিশুটিকে তুলে নেন কোলে। পরে ডেটল দিয়ে পুরো শরীর মুছে নিয়ে যান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে ওঠে শিশুটি।—মর্মন্তুদ এ ঘটনাটি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের। গতকাল সোমবার নূরজাহান রোড গার্লস স্কুলের পেছনে ময়লা ফেলার স্থান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। চিকিত্সক জানিয়েছেন, শিশুটির লাংস স্বাভাবিক । ওজন দুই কেজি সাতশ’ গ্রাম। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মোহাম্মদপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ২৯, নূরজাহান রোডের বাসিন্দা নিজামুদ্দিন ও তার স্ত্রী মীম আক্তার ( দর্জি দম্পতি) শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিত্সা শেষে শিশুকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে রাতে কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে গেছে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ডিউটি অফিসার এএসআই রেহানা বেগম জানান, সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিশুটিকে মীম আক্তারের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। আগামী রবিবার আদালতে পাঠানো হবে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, প্রকৃত অভিভাবক পাওয়া না গেলে এবং দর্জি দম্পতি নিতে চাইলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুটিকে নিতে কোন সমস্যা নেই। এ দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মীম আক্তার বলেন, তার এক ছেলে। এখন থেকে তিনি মনে করবেন তার দুই ছেলে।