বাড়ি ফিরতে চান বাগেরহাট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বৃদ্ধা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৮
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় হাত-পা ভাঙ্গা ভগ্ন স্বাস্থ্যের আনোয়ারা নামে ৫৭ বছরের এক মহিলা চিকিত্সা নিচ্ছেন। সে নিজের নাম আনোয়ারা, পিতা-কেরামত আলী, বাড়ি দুগুছি গ্রাম। এর বেশি কিছু বলতে পারেন না। তিনি বাঁচতে চান, সারাদিন তার চোখ দুটো পরিবারের সদস্যদের খুঁজে ফিরছে। জানা যায়, মহিলা সার্জারী ও মেডিসিন ওয়ার্ডের বারান্দায় জবুথবু প্রায় বস্ত্রহীন অবস্থায় পড়ে আছে। গায়ে মশা ও মাছি ভন ভন করছে। দু’পায়ের হাঁটুর নিচে ভাঙ্গা। শরীরের বিভিন্ন ক্ষত স্থান থেকে প্রতিনিয়ত ঝরছে রক্ত। এ অবস্থায় অন্য রোগীরাও বিরক্তবোধ করছেন। তবে তাকে কে করবে সেবা। তারপরও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা মাঝে-মাঝে তাকে সেবা দিয়ে থাকেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আনজিরা জানান, চলতি বছরের ২৮ মে কয়েকজন যুবক আনোয়ারাকে হাসপাতালে রেখে যায়। তাদের কাছ থেকে জানতে পারি সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আমরা চেষ্টা করি তার সেবা করার। মশারি টানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সে চিত্কার করে ওঠে। এ অবস্থায় অনেক রোগীরা বিরক্তবোধ করেন। সদর হাসপাতালের অর্থপেডিক চিকিত্সক মাহবুবুল আলম জানান, প্রায় ৫ মাস ধরে আনোয়ারাকে চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। তাকে বিভিন্ন সময় খুলনায় রেফার্ড করার চেষ্টা করেও সাথে কোন লোক না থাকায় প্রেরণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা সাধ্যমত চিকিত্সাসেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা সায়লা ইরিন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুস্থদের জন্য আবেদন করলে সমাজসেবার পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়। তবে এ রোগীর ব্যাপারে আবেদন করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। বাগেরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মঈনউদ্দিন মোল্লা জানান, অসুস্থ আনোয়ারাকে আমরা সাধ্যমত চিকিত্সা সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ২/৩ দিন পর পর তাকে পরিষ্কার করা হয়। তার পরিচয় পাওয়ার জন্য বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।