চলনবিলে ত্রুটিপূর্ণ বাঁধ ও স্লুইসগেট চাষির ফাঁস

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৮
পাবনার চাটমোহরে জোলার মুখ বন্ধ করে বাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণ করায় বিলের পানি প্রবাহ ও চাষাবাদ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এই এলাকায় একটি ত্রুটিপূর্ণ স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষা মৌসুমে গুমানী নদীর পানি চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের কিনু সরকারের জোলা ও ছাইকোলা ইউনিয়নের কাটেঙ্গা বৌবাজার জোলা দিয়ে চলাচল করে। এই পানিতে দক্ষিণ চলনবিলের ২০ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়। সময়মতো পানি বের হলে হয় রবিশস্য। কিনু সরকারের জোলা ও বৌবাজার জোলা দিয়ে পানি প্রবেশ করে পানির ঘাটতি পূরণ করতো। কিন্তু ২০০৯ সালে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮ মেট্রিক টন চালের বিনিময়ে সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা জানান, বাঁধটির কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চলতি বছর বিলের উঁচু এলাকায় বোনা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানকার পানি বের হতে না পারলে পেঁয়াজ, রসুন, গম ও সরিষার আবাদ হবে না। নির্মাণে ত্রুটির কারণে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে স্লুইসগেট বন্ধ ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি খোলা সম্ভব হচ্ছিল না। অপরদিকে বৌবাজারে জোলা দিয়ে বিলে পানি প্রবেশ করেনি। এলাকাবাসীর আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মৌসুম শুরুর ২০দিন পর স্লুইসগেট খোলা হয়। ফলে উঁচু এলাকার আমন ধান শুকিয়ে যায়। এলাকাবাসী জানান, বৌবাজারের বাঁধ অপসারণ করা না হলে পরবর্তী ফসলের আবাদ করা সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে একমত হয়ে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রওশন আলম বলেন, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার জানান, বৌবাজারে বাঁধটি দেয়া ঠিক হয়নি। সেখানে একটি স্লুইস গেট করার পরিকল্পনা ছিল। কিনু সরকারের জোলায় নির্মাণ করা স্লুইস গেটটি খোলা ও বন্ধ করার সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারি টাকায় নির্মাণ করা বাঁধ এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।