ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা উদযাপন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০১
রাজধানীসহ সারাদেশে গত বুধবার ত্যাগের মহিমায় বিপুল উত্সাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে। রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেনের পক্ষে বিচারপতি এস কে সিনহা, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকাস্থ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত, ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের লোকজন। এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। প্রতি বছর ঈদুল-ফিতর এবং ঈদুল-আজহা’র দু’টি জামাতে রাজনৈতিক দলের প্রথম সারির নেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও গত বুধবার তেমনটি দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের হাতেগোনা নেতাদের ঈদের নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। তবে প্রথম সারির কোন নেতাকে দেখা যায়নি। তাছাড়া ছিলেন না বিরোধী দল বিএনপি’র কোন নেতা। ঈদের জামাত শেষে মোনাজাতে দেশ, জাতির কল্যাণ কামনা, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর এবং বিশ্বের শান্তি কামনা করা হয়। জাতীয় ঈদগাহর চারপাশ ঘিরে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষিত সোয়াত স্কোয়াড নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা বসিয়ে ঈদগাহে আসা মুসল্লিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। জাতীয় ঈদগাহে জামাতে একসাথে প্রায় দেড় লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মহিলাদের জন্য নামাজ আদায়ের পৃথক ব্যবস্থা ছিল। ঈদগাহ ছাড়িয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে সচিবালয় লিংক রোড, শিক্ষা ভবন ক্রসিং এবং মত্স্য ভবন ক্রসিং (স্টার গেইট) পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন। ঈদের নামাজ শেষে আত্মীয়-স্বজনের সাথে কোলাকুলি ও পশু কোরবানীর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ত্যাগের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিম উম্মাহ। ঈদ উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও স্থাপনা ও সড়কদ্বীপে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক লেখা পতাকা টাঙ্গানো হয়। রাতে বিভিন্ন সরকারি ও ব্যাংক ভবনে মনোরম আলোকসজ্জা করা হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা সর্বস্তরের জনগণের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অপরদিকে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে বিচ্ছিন্নভাবে রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু এলাকায় গত মঙ্গলবার মানুষ ঈদ উদযাপন করে। এদিকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত এক ঘন্টা পর পর পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে ইমামতি করেন সংসদ ভবন মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আবু নাঈম মো. ইব্রাহীম। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিজ্ঞান এবং তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আশরাফুল মকবুল, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার সাধারণ মানুষ জামাতে অংশগ্রহণ করেন। রাজধানীর প্রান্তসীমা কাজলা ভাঙ্গাপ্রেস এলাকায় জেনিথ প্যাকেজেস প্রাঙ্গণে বাইতুল জান্নাথ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় জামাতে নামাজ আদায় করেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এলাকাবাসীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এদিকে দুই সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ৩৭৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৩২ এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪৪টি। ঈদের দিন রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, ভবঘুরে আশ্রয়কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। শাহবাগ শিশু পার্ক ঈদের দিন উন্মুক্ত রাখায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। মিরপুর চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংসদ ভবনের সামনে খোলা জায়গা, লেক ও আশুলিয়াতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ছোট-বড় সব বয়সের লোকদের ভিড় ছিল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ঈদের দিন থেকে বিটিভিসহ সকল স্যাটেলাইট চ্যানেল সপ্তাহব্যাপী বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেছে। এদিকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঈদের জামাত শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধিসহ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। রাজশাহী রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে হযরত শাহ্ মখদুম (রহঃ) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সকাল ৮টায়। এতে ইমামতি করেন শাহ্ মখদুম মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতী শাহদাত্ আলী। রাজশাহী সদর আসনের এমপি ফজল হোসেন বাদশা, বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমেদ, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবির, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সরকারি পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ৪৫ হাজার মুসলমান ঈদ-উল-আজহার নামাজ আদায় করেছেন। এছাড়া শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপিসহ জেলার অন্যান্য এমপি নিজ নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাজশাহীতে ঈদের দ্বিতীয় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ৮টায় সাহেব বাজার বড় রাস্তায়। তৃতীয় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে মহানগর ঈদগাহ (টিকাপাড়া) ময়দানে। বরিশাল বরিশাল অফিস জানায়, এখানে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবিব কামাল, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণ, সদর আসনের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আমীন, জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্নশ্রেণী ও পেশার মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া নগরীর চারটি মসজিদে দুটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানকার বৃহত্তর ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায়। ইমামতি করেন চরমোনাইর পীর সৈয়দ মোঃ রেজাউল করিম।