বরিশালে বিদ্যুত্ কেন্দ্র করবে সামিট পাওয়ার

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৩, ২৩:০১
বরিশালে বেসরকারি উদ্যোগে এই প্রথম বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড। ১৬৫ মেগাওয়াট উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এ পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের জন্য নগরীর ৩টি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালকবৃন্দ। ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিজ খান, ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান ও পরিচালক মিসেস আজিজ খান ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশালে পৌঁছান। প্রকৌশলী ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের নিয়ে তারা দপদপিয়া গ্যাস টারবাইন এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে সড়কপথে দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন এলাকার সম্ভাব্যতা যাচাই করে হেলিকপ্টারযোগে কালিজিরা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় যান। সম্ভাব্য তিনটি স্থানই কীর্তনখোলা নদীর তীরঘেঁষে। এসব স্থানে প্লান্ট নির্মাণের ব্যাপারে বিআইডব্লিটিএ’র মতামত গ্রহণ ও চূড়ান্ত সার্ভে রিপোর্ট প্রদানের জন্য প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান আজিজ খান। তিনি ঈদের পর সরকারি দপ্তর খোলার দিনই সকল প্রক্রিয়া করে চূড়ান্ত সার্ভে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকা পরিদর্শনকালে কোম্পানির চেয়ারম্যান ও অন্য কর্মকর্তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের সম্ভাব্য এলাকার বাসিন্দাদের সাথে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তারা কুশল বিনিময় করেন। কোম্পানির চেয়ারম্যান আজিজ খান সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনকালে ইত্তেফাককে জানান, খুব শিঘ্রই এ পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। ঐ দিন দুপুরেই তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার মধ্যে তেলভিত্তিক এই প্রথম কোন বেসরকারি পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন হতে যাচ্ছে। এর আগে ভোলায় বেসরকারি উদ্যোগে ৩৪ দশমিক ৫ মেগওয়াট গ্যাসভিত্তিক একটি রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও তা বিকল হয়ে আছে। দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্রই বর্তমানে জাতীয় গ্রীড লাইনের বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে তা চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি কখনোই পাওয়া যায় না। দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র বছর জুড়ে বিদ্যুত্ সংকট লেগেই থাকে। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। গ্রামে দিনে ২/১ বার ২/১ ঘন্টার জন্য পল্লীবিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুত্ পান। বাকী সময়টা থাকতে হয় অন্ধকারে। জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে বৈষম্যমূলক নীতির কারণেই এ অঞ্চলের গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান।