শুঁটকি মৌসুম ঘিরে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ব্যাপক আয়োজন

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৯
বঙ্গোপসারের সুন্দরবন উপকূলে শুটকি মৌসুমকে সামনে রেখে মত্স্য আহরণে সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছে জেলে ও মত্স্যজীবীরা। শুটকি মৌসুমকে ঘিরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপও নিয়েছে বন বিভাগ। জেলেদের এ সমুদ্র যাত্রাকে উপলক্ষে ভোর থেকেই শুরু হয় নানা আয়োজন। এ সময় পশুর নদীর চিলা খাল ও ঢাংমারী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন খালের মোহনায় তৈরি হয় ভিন্ন রকম এক পরিবেশ। স্ত্রী-পুত্র ও স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিধি-বিধানের হরেক রকম আনুষ্ঠানিকতা। দোয়া ও মিলাদ মাহফিল ছাড়াও খোয়াজ খিজির (রা) ও গাজী কালুর নামে শিরনি বিতরণের মধ্যদিয়ে জেলেদের সমুদ্র যাত্রা শুরু হয়। এবছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা। বড় রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দস্যুদের উত্পাত না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন খুবই সম্ভব বলে মনে করছে বন বিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, সমুদ্রগামী জেলেদের বনে প্রবেশের পাসপারমিট দেয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে বনবিভাগ। জেলে মহাজন সূত্র জানায়, মংলা থেকে নদী পথে দুবলা জেলে পল্লীর দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। সুন্দরবন অভ্যন্তরের ১৩টি মত্স্য আহরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ নিয়ে গঠিত দুবলা জেলে পল্লী। প্রতি বছর মৌসুমে সাগর পাড়ের দুবলা, মেহের আলীর চর, আলোরকোল, অফিস কিল্লা, মাঝের কিল্লা, শোলার চর, নারকেলবাড়িয়া, ছোট আমবাড়িয়া, বড় আম বাড়িয়া, মানিকখালী, কবরখালী, চাপড়াখালীর চর, কোকিলমনি ও হলদাখালী চরে হাজার হাজার জেলে জড়ো হয়। অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এসব চরে অবস্থান নিয়ে জেলেরা সমুদ্র মোহনায় মত্স্য আহরণ করে। জেলেরা নিজেদের থাকা, মাছ ধরার সরঞ্জাম রাখা ও শুটকি তৈরির জন্য অস্থায়ী ঘর ও মাচা তৈরি করে। জেলেরা সমুদ্র মোহনায় বেহুন্দী জাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে বাছাই করে জাত অনুযায়ী শুটকি করে থাকে। জেলেদের ঘর তৈরি ও জ্বালানি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত রাজস্ব আদায় করে থাকে বন বিভাগের দুবলার চর টহল ফাঁড়ি। এ পল্লীতে মূলত জেলেদের মত্স্য আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভিত্তি করেই বন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। সুন্দরবনে জেলে মত্স্যজীবীদের বৃহত্ সংগঠন দুবলা ফিস্যারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) জিয়া উদ্দিন জানান, শুটকি মৌসুমকে ঘিরে ৩০/৩৫ হাজার জেলে ও মত্স্য ব্যবসায়ী জড়ো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদের পর ভরা মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। তখন জেলেরা পুরোদমে কাজ শুরু করে দেবে।