সিদ্ধিরগঞ্জে ডেইরি ফার্ম ব্যবসায়ীরা হতাশ। মালিকরা তাদের ডেইরি ফার্মের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছেন না কোনভাবেই। গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, অসুস্থ গাভীর সময়মত চিকিত্সা সেবা না দিতে পারা, ব্যাংক ঋণ না পাওয়া ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবসহ নানা কারণে ডেইরি ফার্মের মালিকরা তাদের ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কারণে গত ৬ মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা শতাধিক ডেইরি ফার্মের মধ্যে কমপক্ষে অর্ধশত ডেইরি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে।
সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া, পাইনাদী মধ্যপাড়া, শিমরাইল, সানারপাড়, সাহেবপাড়া, গোদনাইল ও জালকুড়ি এলাকায় শতাধিক ডেইরি ফার্ম ছিল। গত ছয় মাসে এসব এলাকার কমপক্ষে অর্ধশত ডেইরি ফার্ম বন্ধ করে দিয়ে মালিকরা অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। সরেজমিনে গিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৫/৪০টি ডেইরি ফার্মের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ধীরে ধীরে এসব ডেইরি ফার্ম বন্ধ হওয়ার পথে। স্থানীয় ডেইরি ফার্মের মালিকরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে প্রথমদিকে শতাধিক ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছিল। এখানকার মধ্যবিত্ত লোকজন প্রথমে ডেইরি ফার্ম ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু দিন দিন গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, গাভীর রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সরকারি পশু চিকিত্সকের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় অধিকাংশ ডেইরি ফার্ম লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মিজমিজি পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন একটি ডেইরি ফার্ম। তিনি ৬ লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ৮টি গাভী নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তিনি জানান, গো-খাদ্যের অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধি, গাভীর রোগ-বালাই হলে সময়মত পশু চিকিত্সকের সহযোগিতা না পাওয়াসহ নানা কারণে ডেইরি ফার্ম লোকসানে পরিণত হওয়ায় বর্তমানে ডেইরি ফার্মটি বন্ধ করে দিয়েছি। বাতানপাড়ার বাসিন্দা শহিদুল্লাহ জানান, শুরুতে ২০ লাখ টাকা পুঁজি দিয়ে ২৬টি গাভী নিয়ে ডেইরি ফার্ম চালু করি। প্রথম কয়েক মাস ভালোই চলছিল। কিন্তু গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি, রোগাক্রান্ত গাভীর চিকিত্সা সময়মত দিতে না পারায় ব্যবসায় লোকসান হতে থাকে। বর্তমানে তার ফার্মে মাত্র ২টি গাভী রয়েছে।
মিজমিজি পাইনাদী মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মোঃ সেলিম ২০ লাখ টাকার পুঁজি খাটিয়ে ১২টি গাভী নিয়ে ডেইরি ফার্ম করছেন। গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিসহ নানাবিধ সমস্যার মধ্যেও তিনি তার ফার্মটি টিকিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, দেড় থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি গাভী অসুস্থ হলে বা মৃত্যু হলে এক ব্যবসায়ীর পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না। তাছাড়া ব্যবসা বৃদ্ধি করতে টাকার প্রয়োজন যা ব্যাংক থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া গেলে আরও বৃহত্ আকারে ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, গাভীর প্রজনন ব্যবস্থা নিতে, গাভীর রোগ-বালাই হলে স্থানীয় পশু হাসপাতাল থেকে ডাক্তার আনলে তাকে ভিজিট দিতে হয়। তারপরেও সময়মত চিকিত্সকদের পাওয়া গেলে হয়তো গাভী রক্ষা করা সম্ভব হয়। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এমদাদুল হক জানান, গাভীর প্রজনন পদ্ধতির জন্য ৩০/৪০ টাকা ফি নেয়া হয়। আমাদের হাসপাতালে কোন পশু নিয়ে আসলে সরকার নির্ধারিত ফি এর বেশি রাখা হয় না। তবে কোন সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
