সর্বদলীয় সরকার হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এসব কথা বলেছেন। এইচটি ইমাম বলেন, আমাদের সংবিধানে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি হলো নির্বাচন পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনের। দ্বিতীয়ত হলো, সে সরকার থাকবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যে সরকারের দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা। কিন্তু ওইখানে সীমারেখা টেনে দেওয়া আছে, নীতিনির্ধারণী বিষয়ে তারা হস্তক্ষেপ করবে না, কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। এখানে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একধাপ এগিয়ে গেছেন। তিনি নির্বাচনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বদলীয় কথা যেমন বলেছেন, তেমনি তার সঙ্গে একথাও বলেন, নির্বাচনের দিন তারিখ (যে জিনিসটি নিয়ে এতদিন জল্পনা-কল্পনা)। এ নির্বাচনী তারিখ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বড় রকমের একটি রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচনের তারিখটিও সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবেন। প্রধানমন্ত্রী একটি বড় ছাড় দিয়েছেন প্রশ্নে এইচটি ইমাম বলেন, স্পষ্টতই ছাড় দিয়েছেন। সংবিধানে পরিষ্কার বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী যিনি থাকবেন, পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই স্বপদে বহাল থাকবেন এবং তাদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। এর কোনো ব্যত্যয় হবে না। এখানে অন্য কোনো সুযোগ নেই যে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, নির্দলীয় কাউকে সরকার প্রধান করা হবে এর কোনো ভিত্তি নেই। এটির আইনগত সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি নেই।
সর্বদলীয় সরকারে কোন দলের কী পরিমাণ প্রতিনিধিত্ব থাকবে প্রশ্নে এইচটি ইমাম বলেন, এই ফর্মুলাটা এখনও পরিষ্কার করে বলা হয়নি। এটি নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করতে পারি। বিএনপি যদি এখন ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে আমরা আগামীকালই বা পরশু সবাই বসতে পারি। জামায়াতকে সর্বদলীয় সরকারে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতকে এর মধ্যে রাখতে আমরা প্রস্তুত নই। তিনি বলেন, বিএনপি’র প্রস্তাবটি গ্রহণ করা উচিত।
