রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এখনও ঈদের আমেজ কাটেনি। গতকাল শনিবার সরকারি ছুটি শেষ হলেও হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিত্সক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন পর্যন্ত কাজে যোগদান করেননি। এদিকে ঈদের ছুটি চলাকালে গত ৫ দিনে হাসপাতালে ৪০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিত্সা সেবা না পেয়েই এসব রোগী মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিত্সা সেবা না পেয়ে অনেকেই হাসপাতাল ছেড়ে ক্লিনিক অথবা প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে বেশকিছু ওয়ার্ড।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ রিয়াজুল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১ হাজার শয্যার হাসপাতালে ৫ দিনে ৪০ জন রোগীর মৃত্যু স্বাভাবিক। ঈদের ছুটি উপলক্ষে হাসপাতালে বিশেষ টিম গঠন করে রোগীদের চিকিত্সা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছিল দাবি করে পরিচালক জানান, গতকাল ছুটি শেষে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজে যোগদান করেছেন।
গতকাল বিকালে সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের চিকিত্সায় অবহেলা ও নানা দুর্ভোগের চিত্র। রোগী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ, ঈদের ছুটি শেষ হলেও তারা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডাক্তার ও নার্সসহ ওয়ার্ডবয়দের উপস্থিতি কম থাকায় তাদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। আবার কেউ কেউ চিকিত্সা সেবা না পেয়ে হাসপাতাল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ১৯ নং ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রিমন হোসেন নামের অপর রোগীর অভিভাবক লিটন মিয়া জানান, শুক্রবার আঘাতপ্রাপ্ত রিমনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কোন চিকিত্সককে খুঁজে না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ভোরের দিকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার টিউমারে আক্রান্ত ১৪ নং ওয়ার্ডের রোগী মোসলেম উদ্দিন (৪৫) বলেন, ঈদের ৪ দিন আগে টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। অপারেশন হয়েছে। কিন্তু ঈদের আগের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত চিকিত্সক সংকটের কারণে কোন চিকিত্সা পাচ্ছি না।
গত ৫ দিনে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেঃ রংপুর সদরের ইয়াকুব আলী (৫৮), ফিরোজা (৪০), বাবু (২২), সালেহা (৩৬), মেনোকা রানী (৩০), জিওন (৬০), মিঠাপুকুর উপজেলার রতন (৩০), রুবি খাতুন (৩৯), আব্দুর রাজ্জাক (৬০), পীরগঞ্জের বাদশা মিয়া (৫৫), তারাগঞ্জের মনোরঞ্জন (৪০), গঙ্গাচড়ার রিপন (৬০), কাউনিয়ার আরিফ মিয়া (২০), নীলফামারীর মোহাম্মদ আলী (৬০), জলঢাকার লাল্টু চন্দ্র রায় (৪০), সৈয়দপুরের শাকিল (২৮), আব্দুল ওয়াহেদ (৮৫), ডিমলার নিশিবালা (২০), দুলাল চন্দ্র (২০), নীলফামারীর আলেফা (৩০), মোস্তফা কামাল (৬০), দিনাজপুরের রেজিয়া খাতুন (৪৮), সামসুদ্দিন (৫৯), হালিমা (২০) জয়পুরহাট পাঁচবিবির আব্দুল খালেক (৩৫), ঠাকুরগাঁওয়ের আমিনা খাতুন (৬০), ঠাকুর চন্দ্র (২২), মিঠু মিয়া (২০), আব্দুল খালেক (৬০), গাইবান্ধার ফজলুল হক (৩০), লালমনিরহাটের নূরজাহান (৯০), সন্ধ্যা রানী (৪৭), মৌসুমী (২৫), সামছুল হক (৬০)।
