ধস নেমেছে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আলুর বাজারে। হঠাত্ করে আলুর দাম নিম্নমুখী হওয়ায় গত ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারী বাজারে প্রতি বস্তা আলুতে দাম কমেছে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা। ধারণা করা হয়, আলু চাষীদের লোকসান গুনতে হবে ৫ হাজার কোটি টাকার উপরে। এখনও উত্তরাঞ্চলের ৯৮টি হিমাগারে প্রায় ৫ লাখ টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। অথচ আলুর চাহিদা হ্রাস পাওয়া ও বাজার নিম্নমুখী হওয়াসহ ক্রেতা-সংকট দেখা দেয়ায় আলু এখন গলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে।
রংপুর ও রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গেল মৌসূমে উত্তরের ১৬ জেলায় আলুর আবাদ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে। এ পরিমাণ জমিতে আলু উত্পাদন করতে চাষীদের খরচ হয় ৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। হিমাগার ও অন্যান্য খাত বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাত্ আলু চাষীদের উত্পাদন ও সংরক্ষণ বাবদ ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় বর্তমান বাজার দর হিসেবে উত্পাদিত আলুর দাম দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকায়। সেই হিসেবে এবার উত্তরাঞ্চলে আলু চাষীদের ৫ হাজার কোটি টাকার উপরে লোকসান গুনতে হবে।
হিমাগার মালিক ও আলু ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের ৯৮টি কোল্ডষ্টোরে ৯ লাখ ৯৬ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়। যার ৫০ শতাংশ এখনও হিমাগারগুলোতে রয়েছে। অন্যান্য মৌসুমে এইসময় প্রচুর বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে আলুর বাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকায় সংরক্ষণকৃত আলুর চাহিদা বৃদ্ধি পেত, আর এ কারণে দামও বেড়ে যেত দুই থেকে তিন গুণ। সংরক্ষণকারীরা অধিক লাভের আশায় বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করে আলু উত্তোলনে। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসূম শেষ হয়ে গেলেও বন্যা দেখা না মেলায় কমে যায় আলুর চাহিদা। আর এ কারণেই দাম কমতে শুরু করে আলুর। বর্তমান বাজার মূল্যে আলু বিক্রি করলে প্রতি বস্তায় গড়ে লোকসান হচ্ছে ৩ থেকে ৫শ’ টাকা।
চাহিদা কম ও ক্রেতা সংকট থাকায় হিমাগার মালিকদেরও অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হবে। সংরক্ষিত প্রতি বস্তা আলুতে কিছু ঘাটতি ও বাজার দর কম থাকায় অনেক হিমাগার মালিক তাদের ষ্টোরো রক্ষিত আলু বিক্রি করে কর্মচারীসহ হিমাগার খরচ এবং প্রদানকৃত ঋণের টাকা উঠাতে ব্যর্থ হবেন।
