রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষেতের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। ১ দিনের বৃষ্টির পর হঠাত্ করে এক রাতেই করতোয়া নদীর পানি বেড়ে ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ফসলের সাথেই তলিয়ে গেছে ওই অঞ্চলের ১৫ গ্রামের কৃষকের ঈদের খুশি ।
এলাকাবাসী জানান, ঈদের পরদিন ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পান করতোয়া নদীর পানি হুহু করে বেড়েই চলছে। ডুবে গেছে তাদের জমির ফসল । সকালে কোন কোন কৃষক স্ত্রী পুত্রসহ পরিবারের সকল সদস্যকে নিয়ে একমাত্র অর্থকরী ফসল মরিচ ও আলুক্ষেতের জমিতে উঁচ ুকরে আইল দিয়েও পানি থেকে রক্ষা করতে পারেননি। ১৪/১৫ টি গ্রামের শত-শত কৃষকের মরিচ ও আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হতাশার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা ।
বড় বদনাপাড়ার মৃত মোখলেছার রহমান জানান, পাহাড়ি ঢলে আমার ১ একর জমির মরিচ ও ১ একর জমির মূলা সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এবার খুব কষ্ট হবে। কুমারপুর গ্রামের কৃষক নওয়াব আলী বলেন, আমার ১ একর ৬৬ শতক জমির মরিচ, ১ একর জমির ধান, ১ একর আলু ও ১ বিঘা জমির কলাই পানিতে তলিয়েছে। একই গ্রামের আশরাফ উদ্দিন ক্ষোভের সাথে বলেন, হামার কৃষকের খবর কেউ নেয় না। পাহাড়ি ঢলের পানিতে হামার গুলার ফসল পানির নিচে। ঈদের আনন্দ কি আর আছে। সব হারিয়ে গেছে। চতরা ইউপির সদস্য হাফিজার রহমান ও দেলওয়ার হোসেন বাটু বলেন, এ এলাকার কৃষকের প্রধান ফসল মরিচ ও আলু। মরিচ চাষ করেই কৃষকরা সারা বছরের খরচ চালান। কিন্তু এবারে হঠাত্ উজানের পানিতে ওই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়বে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার চতরা ইউনিয়নে ২ হাজার একরেরও বেশি জমির ধান, মরিচ, মাষ কলাই ও আলুসহ সবজি জাতীয় ক্ষেতের ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রাজু জানান, গত বুধবার ঈদের রাতে হঠাত্ করে করতোয়া নদীর পানি বেড়ে যায়। এক রাতেই ইউনিয়নের কুমারপুর, কুয়াতপুর, ঘাষিপুর, সোনাতলা, গোবিন্দপাড়া, অনন্তপুর, জলামহল, সন্দলপুর, সুরানন্দপুর, বাটিকামারী, নিশ্চিন্তবাটি, চন্ডিদুয়ার, চকভেকা, বড় বদনাপাড়া ও কাটাদুয়ার (আংশিক) গ্রামের ২ সহস্রাধিক একর জমির মরিচ,ধান, আলু কলাইসহ নানা ধরনের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। পানি প্রতি মুহূর্তে বাড়ার কারণে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবার আশংকা রয়েছে।
