দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক ঘটনায় সাতজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। —খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
দিনাজপুর
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার দক্ষিণ হরিপুর গ্রামে গত শনিবার ভোরে নরেন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী শ্যামলী রায় (৩০) বিষপান করলে পার্বতীপুর হলদীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে সে বিষপান করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ১টি অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা হয়েছে।
চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা)
উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে গত শনিবার সকালে পানিতে ডুবে সালমান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সালমান দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের মো. ইসমাইলের একমাত্র ছেলে। সে ঈদ উপলক্ষে তার মা-বাবার সাথে নানার বাড়ি চান্দিনার তেঘরিয়া গ্রামে বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন বাড়ির পাশে পুকুরে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা পানি থেকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দক্ষিণ বাইশারী এলাকায় গত শনিবার দুপুরে বজ্রপাতে বুলবুলি আক্তার (১১) নামে একজন নিহত ও তসলিমা বেগম (৯) একজন আহত হয়েছে। বুলবুলি আক্তার দক্ষিণ বাইশারী এলাকার মো. কালুর মেয়ে ও তসলিমা বেগম একই এলাকার হামিদুল হকের মেয়ে। নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনও আহমেদ জামিল জানান, নিহত শিশুটির পরিবার দরিদ্র হওয়ায় দাফনসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসন গ্রহণ করেছে। আহত মেয়েটির চিকিত্সা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষে নেয়া হচ্ছে।
রামু (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে দুই শিশু নিহত ও একটি গরু মারা গেছে। নিহতরা হচ্ছে কচ্ছপিয়ার নতুন তিতারপাড়ার আব্দুল হাকিমের মেয়ে রকিমা খাতুন বাবুনী (৬) ও জিতামুরা এলাকার হাচন আলীর মেয়ে রুজিনা আক্তার (৭) নামে দুই শিশু নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ট্যাম বাজার এলাকার শাহ আলমের মেয়ে হুমাইরা আক্তার (১০), নতুন তিতার পাড়ার আব্দুল হাকিমের স্ত্রী নুরুন নাহার (৪০), নজির আহমদের পুত্র মো. আইয়ুব (৪৪), দিলদার মিয়ার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩), চিতা মুরার শিখন স্কুলের শিক্ষিকা হুড়ে জান্নাত (৩০), আব্দুর রশিদের মেয়ে খালেদা বেগম (১০), শাহিনা আক্তার (৮)।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গত শনিবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে সাবিনা আক্তার (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সে কুঞ্জশ্রীপুর (ফেরিঘাট) গ্রামের ছেরাজুল হকের মেয়ে। রকি নামের এক যুবক সাবিনাকে বার বার বিরক্ত করায় অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে। নিহত সাবিনা স্থানীয় রাজবল্লবপুর জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
রায়পুরা (নরসিংদী)
রায়পুরা উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় গত রবিবার ভোরে আমেনা বেগম (২৩) নামে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ সিলিং ফ্যানে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে রায়পুরা ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রির ছাত্রী ছিল। জানা যায়, প্রায় দু’বছর আগে শ্রীরামপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার সাথে বাহেরচর গ্রামের আবুল মিয়ার মেয়ে আমেনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের শুরু থেকেই মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলছে। ঘটনার আগের দিন আমেনার মা ঈদ উপলক্ষে মেয়েকে বাবার বাড়ি বেড়াতে নিতে আসতে চাইলে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ বাড়ির লোকজন আমেনাকে বাবার বাড়ি যেতে দেয়নি। পরের দিন রবিবার ভোরে প্রতিদিনের ন্যায় স্বামী সোহেল শ্রীরামপুর রেলগেট তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বসতঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় আমেনাকে দেখতে পায়। নিহতের বাবা আবুল মিয়া জানান, আমার মেয়েকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রতিনিয়তই নির্যাতন করতো। তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
