সমঝোতার জন্য পদ ছাড়তে রাজি অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৬
বিএনপি নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয় সরকারে’ যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রীর পদ চাইলে তা ছেড়ে দিতে রাজি আছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বিএনপি ‘সর্বদলীয় সরকারে’ যোগ দেবে এবং দশম সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণেই হবে। গতকাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অবাধ-নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তার চেয়ে ভালো অফার আর কী হতে পারে। আমার বিশ্বাস, বিএনপি সে প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।’ নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় বিএনপি যদি অর্থমন্ত্রীর পদ চায় সেক্ষেত্রে কী করবেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি হেসে বলেন, ‘শুধু অর্থ মন্ত্রণালয় নয়, তারা যদি অন্য কোনো ভালো মিনিস্ট্রিও চায়, তাও দেয়া যেতে পারে।’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহিত মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা শুরু হলে এই জটিলতাও কেটে যাবে। ‘প্রধানমন্ত্রী তো বলেননি যে তিনিই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। সেজন্যই বলছি, আলোচনার সুযোগ আছে।’ আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলেও জানান মুহিত। প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে ‘সর্বদলীয় সরকারে’ আওয়ামী লীগ রাজি হবে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইটস এ ভেরি লিটল স্কোপ (সে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ)। কিন্তু বিএনপি তো কিছুই বলছে না। ‘প্রধানমন্ত্রী ভালো একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। সর্বদলীয় মন্ত্রিসভায় তাদের কাছ থেকে নাম চেয়েছেন। কিন্তু তারা তো কিছুই বলছে না। এখন তারা কী চায়, বলুক।’ নির্বাচন নিয়ে দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দেশে রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে থাকলেও পরিস্থিতি তেমন বলে মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী। ‘খামোখা সঙ্কটের কথা বলা হচ্ছে। দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই। যা আছে, তা খালেদা জিয়ার মানসিক ক্রাইসিস। তিনি (খালেদা জিয়া) বলছেন, ২৪ অক্টোবরের পর এটা হবে, ওটা হবে। এটা করবেন, ওটা করবেন। আমি বলছি, কিছুই হবে না। ২৪ অক্টোবরের পর দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইবে। সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’