রাজশাহী ট্রাক টার্মিনাল ১৬ বছরেও চালু হয়নি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪২
দীর্ঘ ১৬ বছরেও রাজশাহী ট্রাক টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। পাঁচশ’ ট্রাক ধারণ ক্ষমতার ট্রাক টার্মিনালটি বছরের পর বছর ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অথচ মহানগরীর যত্রতত্র সড়ক-মহাসড়কের ধারে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে ট্রাক। ফলে নগরীতে তীব্র হচ্ছে যানজট। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে ট্রাক টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি সাধারণ মানুষের। এদিকে ট্রাক টার্মিনাল ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার জন্য ট্রাক মালিক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পুলিশের সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী বলে মনে করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। তবে ট্রাক শ্রমিকদের অভিমত, টার্মিনাল ব্যবহূত না হওয়ার জন্য আরডিএ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের রহস্যজনক নিরব ভূমিকা দায়ী। অন্যদিকে ট্রাক টার্মিনালের পূর্ব পার্শ্বের প্রায় অর্ধেক জায়গা সমপ্রতি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাসডিপোকে বরাদ্দ দিয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষ। ফলে টার্মিনালের আকার সংকুচিত ও নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীতে স্থানীয় ও বাইরে থেকে আগত মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার ট্রাক চলাচল করে। আরডিএ নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে ১৯৯৮ সালে নগরীর নওদাপাড়ায় সিটি বাইপাস সড়ক সংলগ্ন সাড়ে ৪ একর জমিতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ ও উদ্বোধন করেই আরডিএ দায়িত্ব শেষ করেছে। অর্থাত্ আরডিএ টার্মিনালটি চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা টার্মিনালটি এখনো ব্যবহার করছে না। তারা মালামাল লোড আনলোড এমনকি মেরামতের অজুহাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ব্যস্ততম সড়ক-মহাসড়কের ধারে যত্রতত্র ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখছে। ফলে নগরীতে দিনদিন যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা লেগেই আছে। এছাড়া নগরীর ভদ্রা, কাটাখালি, কাশিয়াডাঙ্গা ও নওদাপাড়ায় গ্যারেজের পাশের সড়কেও ট্রাক পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। ট্রাক চালকদের অভিযোগ, আরডিএ কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে ট্রাক টার্মিনালটি নির্মাণ করেছে। কর্তৃপক্ষ সেখানে পাঁচশ’ ট্রাক রাখার সুবিধা থাকার দাবি করলেও বাস্তবে কোনো সুবিধাই সেখানে নেই। এছাড়া টার্মিনালটি মূল বাইপাস সড়ক থেকে অনেকটা নিচু। ট্রার্মিনালের প্রধান ফটক অনেক ছোট। এজন্য মাল বোঝাই ট্রাক টার্মিনালে প্রবেশ ও প্রস্থানে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া মালিকরাও তাদের নগরীর উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বের টার্মিনালে ট্রাক নিয়ে যেতে দেন না। চালকেরা তাই নগরীর সড়ক-মহাসড়কের ধারে অথবা পার্শ্ববর্তী গ্যারেজের সামনের রাস্তায় মেরামতের অজুহাতে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। মালিকদের সহযোগিতা থাকলে টার্মিনালে ট্রাক রাখতে তাদের কোনো সমস্যা নেই বলেও জানান। এ ব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা শেখ কামারুজ্জামান বলেন, ট্রাক টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাব নেই। ইতোমধ্যে ট্রাক মালিক, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে টার্মিনাল ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করতে পারছেন না আরডিএ কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে শিগগিরই আবারো মালিক, শ্রমিক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যৌথ বৈঠকের কথা রয়েছে। বিআরটিসি বাস ডিপোর জন্য ট্রাক টার্মিনালের জায়গা বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু সেখানে ট্রাক যায় না। সেখানকার কিছু জায়গা বিআরটিসির বাস ডিপোকে সাময়িকভাবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ট্রাক টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলেই বিআরটিসির বাসডিপো সরিয়ে নেয়া হবে।