বেনাপোলে পুরনো ক্রেন-ফর্কলিফট দিয়ে ভারি পণ্য লোড-আনলোড

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দর দিয়ে বেশিরভাগ পণ্য আমদানি রফতানি হয়ে থাকে। এর মধ্যে বেশকিছু হেভিওয়েট পণ্যও রয়েছে। অথচ এসব পণ্য ওজনের জন্য যে ক্রেন ও ফর্কলিফট প্রয়োজন তা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। যা রয়েছে তাও আবার অকেজো। যেকারণে হঠাত্ স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের মালামাল খালাস প্রক্রিয়া। আমদানিকারকরা বন্দর থেকে সময়মতো তাদের পণ্য খালাস করতে পারছেন না। এতে তাদের মাশুল গুণতে হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের মেশিনারিসহ ভারি মালামাল লোড-আনলোডের সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকতে হয় সিরিয়াল দিয়ে। এসব সমস্যা নিয়ে গত বছর আন্দোলনে যান বন্দর ব্যবহারকারী সিএন্ডএফ এজেন্টরা। সেসময় আন্দোলনের মুখে বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নতুন যন্ত্রপাতি আনার আশ্বাস দিলেও আজও তার বাস্তবায়ন করেননি। বন্দর সূত্র জানায়, ভারতের বড় বাণিজ্য কেন্দ্র কলকাতার সঙ্গে বেনাপোলের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার। যেজন্য আমদানিকারকরা এই বন্দরকে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধার কারণে ব্যবহার করে থাকেন। দেশের সিংহভাগ শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের বেশিরভাগ মেশিনারিজ আমদানি করা হচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে আনলোড ও বন্দর থেকে খালাস নেয়া সম্ভব নয়। মংলা বন্দর থেকে ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর অতি পুরাতন ক্রেন ও ফর্কলিফট মংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এখানে কাজ চালানো হতো। ২০১০ সালের ১ আগস্ট থেকে সীস লজিস্ট্রিক্যাল সিস্টেমস (জেভি) নামে একটি কোম্পানি বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পায়। তারা বন্দরে ১১টি ফর্কলিফট ও ৫টি ক্রেন দিয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ করার পর ওই বছরের ১০ নভেম্বর আরও ৬টি নতুন ফর্কলিফট নিয়ে আসে। বর্তমানে বন্দরে ৮টি ফর্ক লিফট ও ৪টি (একটি চুক্তি বহিভূর্ত অতিরিক্ত) মোট ৫টি মোবাইল ক্রেন দিয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ করছে। কয়েকদিন কাজ করার পর এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো হওয়া শুরু করে। একটি মাত্র ৪০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন ও ২০ টন ধারণ ক্ষমতার ফর্কলিফটসহ মোট ৩টি ফর্কলিফট বিকল রয়েছে। ২৫-৩০ টনের ২টি ফর্কলিফট কাগজে কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। এর ফলে ভারি পণ্য লোড-আনলোডে মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এ বন্দরে ৪০ থেকে ৪৫ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কোন ফর্কলিফট নেই। একটি মাত্র ২০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফর্কলিফট থাকলেও সেটা মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। ৩ থেকে ১০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন যে ৮টি ফর্কলিফট রয়েছে তা দিয়ে বন্দরে লোড-আনলোড করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ৪০ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মাত্র মোবাইল ক্রেন থাকলেও সেটি অচল হয়ে মেরামতের জন্য পড়ে আছে চট্টগ্রামে। আর ৫ থেকে ৩৬ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন রয়েছে মাত্র ৫টি। এসব ক্রেন অধিকাংশ সময় অকেজো পড়ে থাকে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় ২৫ টনের ফর্কলিফটি অকেজো থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটছে মালামাল লোড-আনলোডে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষ বার বার আশ্বাস দিলেও বন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং পুরাতন যেসবক্রেন ও ফর্কলিফট দিয়ে আমদানি করা মালামাল ওজন দেয়া হয়ে থাকে তাতে অনেক সময় মালের ক্ষতি হয়। পড়ে গিয়ে বিভিন্ন মালামাল ভেঙ্গে ও রং চটে যায়। আবার যন্ত্রপাতির অভাবে মালামাল ওজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ সময়ক্ষেপণ করেন। এতে আমদানিকারকদের অযথা বন্দরের ভাড়া গুণতে হয়।