নেই পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্ভোগে লাখো মানুষ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫২
রাজধানীর কদমতলীর মুরাদপুর লালমিয়া সরকার সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত্ বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তাটি মেরামত ও সংস্কার না করায় বর্তমানে তা যাতায়াতের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সুয়ারেজ লাইন বা পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে পানি জমে থাকছে। এতে এলাকার কয়েক লাখ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গণধরনা দিয়েও কোন সুফল মিলছে না। তার উপর যানজট, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, মশা-মাছির যন্ত্রণাসহ পানি সংকট এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয়রা জানান, এ এলাকার মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্ট পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা। ফলে সারা মাসই রাস্তা পানিতে সয়লাব হয়ে থাকছে। যানবাহন ও পথচারী চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তার গর্তে পড়ে পথচারী আহত হবার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এছাড়া এলাকার কোথাও কোথাও ঢাকনাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা ম্যানহোল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কিন্তু সড়কটি দীর্ঘদিনেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এদিকে কদমতলীর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, দুর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে এলাকায় টেকা দায় হয়ে গেছে। অনেকেই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অন্যত্র বাসাভাড়া নিয়েছেন। তিনি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও সুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া গত বেশ কিছুদিন যাবত্ এলাকায় ময়লা-আবর্জনার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। সন্ধ্যার আগেই ঝাঁকে-ঝাঁকে মশা নেমে আসে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে মশার ওষুধ স্প্রে না করায় এ উপদ্রব বেড়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তোভোগীরা। অন্যদিকে এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ মহল তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকাসক্ত করে তাদের বিপথগামী করে তুলছে। ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ লালমিয়া সড়ক এলাকায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। গন্ধযুক্ত এই পানি একেবারেই মুখে তোলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদা বেগম এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে বলেন, গত এক মাস ধরে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে। পানি রান্না-বান্নার কাজেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একাধিকবার ঢাকা ওয়াসার স্থানীয় কার্যালয়ে অভিযোগ করলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. রহমত উল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, পুরান ঢাকার কিছু কিছু স্থানে ওয়াসার লাইনে লিকেজ থাকায় তা দিয়ে কোন কোন সময় ময়লা-আবর্জনা প্রবেশ করে পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ওয়াসার কর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। পানি সংকট নিরসনে ওয়াসা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।