আন্দোলনের নামে চট্টগ্রামে নাশকতার আশঙ্কা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪২
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত-শিবির নগরীতে ব্যাপক শো-ডাউনের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের মহড়া প্রদর্শন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সামপ্রতিক সময়ে জামায়াত-শিবির নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করলেও সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে ব্যাপক শো-ডাউনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ করেছে। এবার জামায়াত-শিবিরের পুরনো ও নিষ্ক্রিয় কর্মী-সমর্থকদেরও মাঠে নামানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্ব পর্যায় থেকে তাদের পুরনো নেতা-কর্মীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে:এটা তাদের বাঁচা-মরার লড়াই। তাই যে করে হোক সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। শো-ডাউনে অংশগ্রহণ করতে হবে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ১৮ দলের ব্যানারে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে নগরীতে নাশকতার আশংকা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ৫ বছরে সরকার বিরোধী আন্দোলন যে মাত্রায় চলছিল এবার তা ভিন্নমাত্রায় দেখা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারি সম্পত্তিসহ স্পর্শকাতর স্থানসমূহও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। সিটিএসবি’র সহকারি কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, তারা সবকিছু তাদের বিবেচনায় রাখবেন। বিরোধী দল সূত্রে জানা যায়, সরকার বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এবার তারা সরকারের পুরো প্রশাসন যন্ত্র বিকল করে দেবে। সড়ক, রেল ছাড়াও চট্টগ্রাম বন্দরকে অচল করার মতো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতেও তারা পিছপা হবে না। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসমূহকে পৃথক দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। আবার চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি সংসদীয় এলাকার সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের এলাকায় সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টরা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার জন্য যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য তারা পৃথক সভা করছেন বলে জানা যায়। গতকাল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করবেন না তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। মহানগর ছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃত্বে পৃথকভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলন কঠোরভাবে পালন করার জন্য নিজ নিজ উদ্যোগে বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে উত্তর জেলা বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুন্ড ও মীরসরাই এলাকা এবং একইভাবে উক্ত এলাকাধীন রেল সড়ক অবরোধের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার উদ্যোগে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের মহাসড়ক এলাকা জামায়াত-শিবিরের শক্ত অবস্থান থাকায় এবং ইতিমধ্যে তারা বেশ ক’বার ওই সড়ক বন্ধ করায় এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘি ময়দানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকলেও পুলিশ এখনও কাউকে অনুমতি দেয়নি। তথাপিও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশ করার জন্য অনঢ় অবস্থানে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বুধবার বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজকে বৈঠকে লালদীঘি ময়দানে উভয় সংগঠনের সভা আহবানের ব্যাপারে পুলিশ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। একইসাথে নগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিকল্পনা নেয়া হবে। অপরদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ১৮ দল তাদের আন্দোলন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ চট্টগ্রামে ১৮ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বৈঠক ডেকেছেন। একইভাবে মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়।