সাভারের রানা প্লাজা ধসের ছয়মাস পার হবে কাল ২৪ অক্টোবর। এই ছয় মাসেও অভিযুক্তদের ব্যাপারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমনকি এ ট্র্যাজেডির মূল নায়ক সোহেল রানার বিরুদ্ধেও দুদকের অনুসন্ধান থেমে আছে। সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সম্পদের হিসাব চাওয়া হলেও এ পর্যন্ত কারো সম্পদের হিসাব পায়নি সংস্থাটি। এ ব্যাপারে গঠিত অনুসন্ধান টিম কার্যত থামিয়ে রেখেছে তাদের কাজ।
অপর দিকে রানাপ্লাজা ধসের এক মাসের মাথায় দুদকের অনুসন্ধানী টিম কমিশনে একটি রিপোর্ট দাখিল করে। রিপোর্টটি এখন হিমাগারে। কমিশন এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।
দুদকের এক অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা বলেন, আমরা অনুসন্ধান করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। কমিশনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না আসায় এ নিয়ে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অপর দিকে দুদক চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘রানাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেয়া হয়েছিল। তিনি জেলে থাকায় ওই নোটিস কার্যকর হয়নি। তিনি যতদিন জেলে থাকবেন ততদিন হয়তো বিষয়টি ঝুলেই থাকবে।
দুদক জানায়, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সোহেল রানাসহ তার নিকটজনের অবৈধ সম্পদের খোঁজে ৩০ এপ্রিল থেকে মাঠে নামে দুদক। সোহেল রানা, তার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা বেগমের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেয়া হয়। রানা এবং তার বাবা জেলখানায় থাকায় নোটিস কার্যকর হয়নি। মা পলাতক থাকায় নোটিস ফেরত আসে। এরপরও কমিশনে প্রতিবেদন পেশ করে দুদকের অনুসন্ধানী টিম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে আশ্চর্যজনকভাবে রানা কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান। সাভারে ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর তিনি নির্মাণ করেন নয়তলা রানা প্লাজা। সাভার বাজার রোডে রানা টাওয়ার নামে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ৪ হাজার বর্গফুট। সাভারের ৬৯/১ বাজার রোডে ছয়তলা আরও একটি ভবন আছে। এর একটি ফ্লোরে রানা নিজে বসবাস করতেন।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, সোহেল রানার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের জয়মণ্ডপে দোতলা বাড়ি আছে। বোন সুমী, রওশন আরা ও সুফিয়ার নামে সাভার বাজার রোডে রয়েছে একাধিক বাড়ি। ধামরাইয়ে রানা ব্রিকস ও এমএকে ব্রিকস নামে দুটি ইটভাটা রয়েছে। সাভার পৌরসভা ও পৌরসভার বাইরে রানার নামে রয়েছে অনেক জায়গা-জমি। রানার নিজ নামে আছে চারটি গাড়ি। এর মধ্যে একটি মাইক্রো, দুটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেটকার। রানা পাঁচটি ব্যাংকে লেনদেন করতেন। এক্সিম ব্যাংকে তার নামে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে।
এ প্রতিবেদন দাখিলের পর ভবন নির্মাণে ত্রুটির বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) এক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পায় দুদক। ওই কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে রানা প্লাজা নির্মিত হয়েছে। ওই কর্মকর্তার ব্যাপারেও দুদক এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
