বরগুনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলছে ইলিশ শিকার। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাগরসহ দেশের সকল নদীতে ১৩ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মত্স্য অধিদপ্তর। কিন্তু ট্রলার মালিক ও আড়ত্দারদের চাপে জেলেরা মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জেলার তালতলী, ফকিরহাট, সকিনা, কুমিড়মারা, নিশান বাড়িয়া, গুলিশাখালী, পদ্মা, রুহিতাসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতি রাতে জেলেরা শত শত মণ ইলিশ শিকার করছে। রাতেই তা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে কম মূল্যে বিক্রি করছে।
পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার ইব্রাহীম, জালাল, কালুমিয়াসহ একাধিক জেলে জানান, তারা চরদুয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির সাথে অর্ধেক ভাগাভাগির চুক্তিতে রাতে ইলিশ শিকার করেন। যা পান তা থেকে অর্ধেক পুলিশকে দিতে হয়। তবে চরদুয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা সহকারী উপ-পরিদর্শক সাইফুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলেদের সাথে পুলিশের এ ধরনের কোন সমঝোতা হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে বলেন, ‘জেলে যাইতে ক্যার (কার) মোনে চায়? মোরা গরিব মানু (মানুষ), কাম (কাজ) হইররা খাই, মহাজনের কতায় চলি, হ্যারা য্যা কয় মোরা হেইয়া হরি (করি), হ্যাগো কতায় না চললে মোগো খাওন বন্ধ”। তালতলী উপজেলার ফকিরহাটের এক আড়ত্দার বলেন, প্রশাসন ঠিক থাকলে সব ঠিক, তারা সুযোগ দিলে আমাদের সুযোগ নিতে সমস্যা কোথায়?
জেলা মত্স্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত ইলিশ ধরার কারণে মামলা হয়েছে ১০৩টি, ৩৭ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং ৬৬ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা। জব্দ করা হয়েছে ২ মেট্রিক টন ইলিশ এবং ৬ লাখ মিটার জাল। জব্দকৃত জালের মূল্য ৩ লাখ ৩১ হাজার ৬১ টাকা।
ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ার ব্যাপারে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা বঙ্কিম চন্দ্র বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
এদিকে জেলার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ও সোনাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির আকন গত ১৯ অক্টোবর বরগুনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, গত ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সখিনার খালে থাকা দেড় শতাধিক ট্রলার থেকে ১৪/১৫ হাজার টাকা করে উেকাচ নিয়ে মাছ শিকারের জন্য সাগরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে কোস্টগার্ড। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার কারণে চায়ের আমন্ত্রণ জানিয়ে কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন প্রধান ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে ।
