পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রয়োজন পরিবেশ উন্নয়ন

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৩
পোশাক কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাথে একটি প্রজেক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট উইনিংটন গিবসন বলেন, শ্রমিকদের জীবনের বিনিময়ে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইএলও-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গারবেন ডি জং, আইএলও’র ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল গিলবার্ট হংবো, কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস বি রেড্ডি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা আয়সহ নারীর ক্ষমতায়নে পোশাক খাতের অবদান অনেক বেশি। গত ত্রিশ বছর ধরেই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজসহ বিভিন্নভাবে এ খাতটি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। এ অবস্থায় পোশাক খাত যেন কিছুতেই হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য সরকার কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইএলও’র সাথে সরকার প্রজেক্ট স্বাক্ষর করলো। রানা প্লাজার ঘটনার পরই সরকার পোশাক খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, পোশাক কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরও আইএলও ও উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র এ প্রজেক্টের মাধ্যমে এগিয়ে আসায় তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য আমাদের পোশাক কারখানার উন্নয়নে এগিয়ে আসায় পরিবেশ উন্নয়ন দ্রুততর হবে। রবার্ট গিবসন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে পোশাক খাত গভীরভাবে জড়িত। সময়ের সাথে সাথে এ খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকলেও কারখানার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে রানা প্লাজার ধস ও তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা দেখতে হয়েছে। এরপরও দুর্ঘটনা থেমে নেই। রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান করে ব্র্যান্ডিং মান তৈরি করতে হবে। এ জন্য কারখানার মালিক, সরকার ও শ্রমিকদেরকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারখানায় বিশ্বমানের কাজের পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমেই এ খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পোশাক কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে সদ্য স্বাক্ষরিত প্রজেক্ট বড় অবদান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে আইএলও’র ডেপুটি ডাইরেক্টর জেনারেল গিলবার্ট হংবো বলেন, এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে কাজ করা হবে। তাই হঠাত্ করেই সব উন্নয়ন হয়ে যাবে তা ভাবা ঠিক হবে না। এদিকে প্রজেক্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস রেড্ডি বলেন, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী সাড়ে তিন বছর এ প্রজেক্টের মেয়াদ। এর আওতায় পাঁচটি কাজকে প্রাধান্য দেয়া হবে। প্রথমত, পোশাক কারখানার স্থিতিশীলতা এবং অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত কি না তা যাচাই করা হবে। দ্বিতীয়ত, শ্রমিকদের সক্ষমতা উন্নয়নে নীতিগত ও প্রশিক্ষণগত সহায়তা দেয়া হবে। তৃতীয়ত, পেশাগত কাজে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। চতুর্থত, রানা প্লাজা ও তাজরীনে আহতদের পুনর্বাসন এবং কাজে অংশগ্রহণ করানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পঞ্চমত, পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।