গোদাগাড়ীতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৫
এবার কোরবানী ঈদের আগে প্রতিকেজি দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। কারণ এ সময় দেশি পিঁয়াজের সংকট থাকে। তাই ভারতীয় পিঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হয় ব্যবসায়ীদের। এমন অবস্থায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে চাষ হয়েছে গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ। আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে চাষকৃত গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষ ও বীজ উত্পাদনের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গত বছর উপজেলার নবগ্রামের কৃষক আমেনা খাতুন ৫ কাঠা জমিতে দেশী জাত বারি-৫ গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের বীজ উত্পাদন করে। এই কৃষকের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ১০ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে এবারের মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজ চাষ করেছে। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চাপালের কৃষক সুভান আলী ৫ কাঠা জমিতে গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ পিঁয়াজের চাষ করেছেন। তিনি জানান, ৫ কাঠায় তার খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে জমি থেকে পিঁয়াজ উত্তোলন করবেন তিনি। ঈশ্বরীপুরের কৃষক মোমিন ১০ কাঠা জমিতে গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ পিঁয়াজ চাষ করতে খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল আলম বলেন, গ্রীষ্মকালীন বারি-৫ পিঁয়াজ চাষে প্রতি বিঘায় খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় উত্পাদন হয় ১৪০ থেকে ১৫০ মণ। প্রতিটি পিঁয়াজের ওজন ১০০ থেকে ২০০ গ্রামেরও বেশি হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলার ৩০ জন কৃষককে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এতে করে আগামী বছর গোদাগাড়ী উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের চাষকৃত জমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি জানান। জুন মাসের শেষের দিকে পিঁয়াজ চাষের জন্য জমি তৈরি প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ দিন বয়সের সুস্থ চারা মূল জমিতে ১৫ সেমি. দূরত্বে সারি করে ও ৩-৪ সেমি. গভীর গর্তে ১টি করে লাগাতে হয়। চারা রোপণের পর সেচ দিতে হয়। জমিতে চাষকৃত গ্রীষ্মকালীন পিঁয়াজের চারায় পার্পল ব্লচ রোগ দেখা দিলে রিডোমিল ও রুব্রাল স্প্রে করতে হবে। সব সময় পিঁয়াজের জমি আগাছা মুক্ত রাখতে হয়।