রংপুর ও কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিসহ তিন স্থানে পৃথক ঘটনায় তিনজন খুন হয়েছেন। —খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
রংপুর
রংপুর নগরীর রামপুরা দক্ষিণ খলিফা পাড়ায় গত মঙ্গলবার রাতে ডিস ব্যবসা নিয়ে রতন (২৭) নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ডিস ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই নগরীর রামপুরা ও আর কে রোড এলাকার মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রামপুরা এলাকাবাসী প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়াসহ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে। ঘটনার দিন বাসায় ফেরার পথে প্রতিপক্ষরা রতনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করে। নিহত রতন রামপুড়া এলাকার আফিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় বর্তমানে ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কোতয়ালী থানার ওসি (প্রশাসন) সৈয়দ শাহাবুদ্দিন খলিফা জানান, রতন খুনের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
কটিয়াদী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতে একটি বাড়ি দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত ইউসুফ আলী (৬০) নামে একজন নিহত হন।
জানা যায়, ১০ অক্টোবর ঐ এলাকার নিধান বেপারীর ৩ পুত্র ও বন্ধু আওয়াল জব্বার এবং পার্শ্ববর্তী ইউসুফ আলী বাড়িতে জোরপূর্বক ঘর উঠায়। এ সময় ইউসুফ আলী ও চাচা জমশেদ বাধা দিলে তাদেরকে টেটা দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত দু’জনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত মঙ্গলবার ইউসুফ আলী মারা যান।
কটিয়াদী থানার ওসি এমদাদুল হক জানান, এ ব্যাপারে ইউসুফ আলীর চাচা জমসেদ আটজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
গাংনী (মেহেরপুর)
গাংনীর মাথাভাঙ্গা নদী থেকে পিপুল (৩০) নামে এক অপহূত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, হাত পা বাঁধা, গোপন অঙ্গ কাটা, বিবস্ত্র অবস্থায় ছিল। সে গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামের একছার আলী (সাধু বাবা)’র ছেলে।
পিপুলের পিতা একছার সাধু জানান, প্রায় ১ মাস আগে পাশের মাইলমারী গ্রামের ঝন্টু তাকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গাংনী থানার ওসি মাছুদুল আলম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ঝন্টুকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় ঝন্টুর স্বীকারোক্তিতে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুরের যাত্রাদলের নৃত্য শিল্পী সোনিয়াকে আটক করা হয়েছিল। রিমাণ্ডে নিয়ে সোনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। কিন্তু সোনিয়া এ ব্যাপারে কোন তথ্য দেয়নি।
