বিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতির প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪০
বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান টিম। আগামী সপ্তাহে এ প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেয়া হবে। এ প্রতিবেদনে সরাসরি ১০টি মামলার শুপারিশ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিন্নতার কারণে কমিশন ভিন্নভাবে ১২টি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ প্রতিবেদনে বিসমিল্লাহ গ্রপের এমডি, পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও বিসমিল্লাহ গ্রুপ এরই মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন চুকিয়ে ফেলে এবং শাহজালাল এবং যমুনা ব্যাংকেও কিছু অর্থ সমন্বয় করে। একারণে দুদক টিমের প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ অর্থের পরিমাণ আরও কম হয়। তবে প্রায় হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক টিম। প্রতিবেদন জমা দেয়ার ব্যাপারে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদেরকে দ্রুততম সময়ে তাদের এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহের শেষের দিন অথবা আগামী সপ্তাহে তারা কমিশনে তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর কমিশন আইনগণ প্রক্রিয়ায় কাজ চালাবে। দুদক সূত্র জানায়, এ মামলাগুলোতে আসামির তালিকায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ৫টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ ও পাঁচ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের যাদের নাম থাকবে বলে দুদক সুত্রে জানা গেছে তারা হলেন, বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবিদা হাসিব, পরিচালক নাহিদ আনোয়ার খান, খন্দকার মো. মইনুদ্দিন আশরাফ, সারোয়ার জাহান। আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান নওরিন হাসিব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, আবুল খায়ের আবদুল্লাহ, লুনা আবুদল্লাহ, মো. আলমগীর হোসাইন, হেনা সেরনিয়াবাত এবং সাইদ মাহমুদ মোসতাকি। শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক নওরিন হাসিব। সেহরিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক মির মোহাম্মদ ইয়াকুব, মের্সাস কনিজ ফাতিমা, মির মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, পরিচালক নওরিন হাসিব। হিন্দুওয়ালী টেক্সটাইল লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, বেগম সরোয়ার জাহান, আলহাজ্ব নাদের জাহান বেগম, বেগম নাহিদ আনোয়ার, বেগম ফেরদৌস আনোয়ার এবং মিসেস শারমিন আনোয়ার। এদের মধ্যে খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, শফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, নওরিন হাসিব ও নাহিদ আনোয়ার খান একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পর্ষদের সদস্য থাকায় তাদের প্রায় প্রতিটি মামলার আসামি হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, মামলায় কয়েকটি ব্যাংকের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম থাকতে পারে। তারা বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিল পার্চেজ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাত্রাতিরিক্ত বকেয়া থাকা সত্ত্বেও নতুন কন্ট্রাক এলসির কাগজপত্রে তাদের স্বাক্ষর পেয়েছে দুদক। বিশেষ করে সর্বশেষ বিসমিল্লাহ গ্রুপের নামে নতুন করে ১৪২ কোটি টাকার বিল পার্চেজ নবায়ন হয়। ওই সময় বিসমিল্লাহ গ্রুপের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি টাকার উপরে। এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া থাকার পরও তারা ঐ অর্থ ছাড় করেছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক। এদিকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক হিসেবে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. রহমত আলীর ছেলে এ্যাড. জামিল হাসান দুর্জয় এবং কুমিল্লার সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির কোন প্রমাণ পায়নি দুদক টিম। গ্রুপটির সকল নথি এবং সমপ্রতি জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালক হিসেবে তাদের কোন সম্পৃক্ত পাওয়া যায়নি। এতে কেলেঙ্কারির দায় থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ওই দুই এমপি পুত্র। উল্লেখ্য, বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে এ অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন-সহকারী উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম, গুলশান আনোয়ার প্রধান, উপ-পরিচালক সরদার মঞ্জুর আহমেদ এবং মো. আল আমিন।