হতাশায় পোড়াচ্ছে কিউই ব্যাটসম্যানরা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪১
শেষ বিকেলের রোদ, দিন শেষের অপেক্ষা, তিন সেশনের খেলা—এই ব্যাপারগুলো একটু নতুনই মনে হল গতকাল। আগের দু’দিনের তুলনায় অন্তত এই শেষ সেশনে খেলা হওয়ার বিবেচনায় কালকের দিনটাকে ব্যতিক্রম বলেই মানতে হবে। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনে কাল আর বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারল না। ফলে ‘চা-বিরতিতেই খেলা শেষ’ নিয়মটাকে ভঙ্গ করে পুরো তিন সেশনই খেলা হল। আর লম্বা এই দিনে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়মিত আক্রমণের মধ্যে স্কোর বোর্ডে বড় পুঁজিই জমা করে ফেললো নিউজিল্যান্ড। কোরি অ্যান্ডারসনের সেঞ্চুরি এবং শেষ বেলায় ইশ সোধি ও ওয়াটলিংয়ের প্রতিরোধ দারুণ হতাশ করেছে বাংলাদেশি বোলারদের। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ২৮২ রানের জবাবে কাল দিন শেষে ৮ উইকেটে ৪১৯ রান তুলে ফেললো সফরকারীরা। ইতিমধ্যে তারা ১৩৭ রানের লিড নিয়ে নিয়েছে প্রথম ইনিংসে। ৩ উইকেটে ১০৭ রান নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় দিন বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে সাকিব আল হাসান যে রূপে আক্রমণ শুরু করেছিলেন, তাতে নিউজিল্যান্ড খুব বেশি দূর যাবে বলে কেউ অনুমান করেননি। গতকাল সকাল বেলায় একই রূপ দেখিয়ে শুরু করেছিলেন সাকিব। স্কোর বোর্ডে আর ২০ রান যোগ হতেই রস টেলরকে ফিরিয়ে নিজের ও দলের চতুর্থ শিকার করে ফেললেন এই বাঁহাতি স্পিনার। কিন্তু এরপরই প্রতিরোধটা শুরু করল নিউজিল্যান্ড। একেবারে ক্লাসিক যুগের টেস্ট ব্যাটিং করতে থাকা কেন উইলিয়ামসন ও নিউজিল্যান্ডের নতুন আবিষ্কার কোরি অ্যান্ডারসন মিলে ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধটা গড়ে তুললেন। অ্যান্ডারসনের আগ্রাসী চেহারায় ৪২.৪ ওভারে ৫ম উইকেটের জুটিতে ১৪০ রান যোগ করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। একটা সময় এই জুটির কাছে খুবই অসহায় হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন আব্দুর রাজ্জাক। ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ১৫১ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলা উইলিয়ামসনকে আউট করে জুটি ভাঙেন রাজ্জাক। এর পরপরই আরেকটা আঘাত হেনে বাংলাদেশকে একটু হলেও খেলায় ফিরিয়ে আনেন আল আমিন। তার বলে সোহাগ গাজীর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন অ্যান্ডারসন। ততোক্ষণে অ্যান্ডারসন ১৭৩ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো ১১৬ রানের ইনিংস খেলে ফেলেছেন; পেয়ে গেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এই দুই চেপে বসা ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর পর চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হতাশ করা ওয়াটলিং ও ব্রেসওয়েল জুটি করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ব্রেসওয়েলকে ১৭ রানে আউট করে তবেই চা-বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। আর এই উইকেট তুলে নেয়ার ভেতর দিয়ে প্রায় দুই বছর পর ইনিংসে ৫ উইকেট নিশ্চিত করলেন সাকিব আল হাসান। চার বিরতির পরও ধারাটা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। নিল ওয়াগনারকে মাত্র ৮ রানে ফিরিয়ে দেন অধিনায়কের দারুণ বাজি হিসেবে প্রতিটা ইনিংসেই বল হাতে নেয়া নাসির হোসেন। কিন্তু এরপরই আসল হতাশাটা শুরু হয় বাংলাদেশের। চট্টগ্রাম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান বিজে ওয়াটলিং ও তরুণ স্পিনার ইশ সোধি মিলে বাংলাদেশের বোলিংকে হতাশ করে লিড বড় করতে থাকেন। এই দু’জন যখন জুটি বেঁধেছিলেন, নিউজিল্যান্ডের রান ছিল তখন ৮ উইকেটে ৩১৮; লিড তখন ৩৬ রানের। সেখান থেকে নবম উইকেটে অপরাজিত ৮৪ রান যোগ করে লিড ১৩৭ রানে তুলে নিয়ে গেছেন সোধি ও ওয়াটলিং। দু’জনই অনায়াসে ফিফটি পার করে ফেলেছেন।