শাহজালাল বিমান বন্দরে যাত্রীদের হারানো ব্যাগেজের স্তূপ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫২
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের হারানো ব্যাগেজের স্তূপ গড়ে উঠেছে। আর হারানো ব্যাগেজ পেতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন বিড়ম্বনা। এই বিমানবন্দর দিয়ে দৈনিক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ দেশি-বিদেশি ৩৫টি এয়ারলাইন্সের প্রায় ১শ’ ফ্লাইট চলাচল করে। এসব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব বিমান কর্তৃপক্ষের। সাম্প্রতিককালে বিদেশ থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের ব্যাগেজ হারানোর মাত্রা বেড়েছে। অনেক যাত্রী আকাশপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার পর ঢাকায় ফ্লাইট থেকে নেমে তাদের ব্যাগেজ পান না। এ নিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিয়েও কোন লাভ হয় না। শেষ পর্যন্ত ব্যাগেজ না পেয়ে যাত্রীদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লস্ট এন্ড ফাউন্ড শাখায় লিখিত অভিযোগ করে বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু দিনের পর দিন পার হলেও অনেক যাত্রীর হাতে হারানো ব্যাগেজ পৌঁছে না। আবার এমনও অনেক যাত্রী আছেন প্রবাস থেকে দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরছেন। তাদের অধিকাংশই ঢাকার বাসিন্দা না। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাদের ঢাকা থেকে দূর-দূরান্তের কোন জেলায় নিজ নিজ বাড়িতে যেতে হয়। কিন্তু ব্যাগেজ না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। আবার হারানো ব্যাগেজ পেতে কারো কারো পক্ষে দূর থেকে এসে বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরনা দেয়াও সম্ভব হয় না। ঝামেলা এড়ানোর জন্য অনেকে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগেজ পাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যান না। এমনও যাত্রী আছেন যাদের হারানো ব্যাগেজ পাওয়ার নিয়ম-কানুনও জানা নেই। ফলে যাত্রীদের হারানো ব্যাগেজ পরবর্তীকালে কোন ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছালেও তা মাসের পর মাস এই বিমানবন্দরের কাস্টম হলে অযত্নে মেঝেতে পড়ে থাকে। এতে ব্যাগের মধ্যে জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। কিছু হারানো ব্যাগেজ ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে গায়েব হওয়ার ঘটনাও অহরহ ঘটে চলেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং শুল্ক বিভাগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকা থেকে মূল্যবান পণ্য বোঝাই ব্যাগেজ বাইরে পাচার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কোন এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকারী যাত্রীর ব্যাগেজ যদি হারিয়ে যায় তা খুঁজে এনে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে দ্রুত পৌঁছে দেয়া হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের লস্ট এন্ড ফাউন্ড শাখায় সেবার মান নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই। হারানো ব্যাগেজ পাওয়ার জন্য এখানে এসে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিমানের লস্ট এন্ড ফাউন্ড শাখার একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী হারানো ব্যাগেজের সন্ধানের জন্য আসা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে দুবাই প্রবাসী চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলার লুদ্দাখালি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বাবার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই থেকে সিলেট হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। দুবাই থেকে বিমানের ল্যাগেজ হোল্ডে তিনি একটি ব্যাগ দেন। কিন্তু শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে তিনি তার ব্যাগটি না পেয়ে হতাশ হন। দীর্ঘ সময় তাকে বিমানের লস্ট এন্ড ফাউন্ড শাখায় ধরনা দিতে দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত ব্যাগটি না নিয়েই তাকে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে হয়। হারানো ব্যাগেজের বিষয়ে বিমানের গ্রাহক সেবা বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, পবিত্র ঈদ ও হজ্বের সময় আসলে ব্যাগেজ হারানোর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিমানসহ বিদেশি কোন কোন এয়ারলাইন্সের কিছু উড়োজাহাজে ব্যাগেজ পরিবহন ক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে যাত্রী পৌঁছালেও সময়মতো ব্যাগেজ আসে না।