চট্টগ্রামে জামায়াত কর্মীর বাসায় বিস্ফোরণ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৭
নগরীর রসুলবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা পুলিশ সে ব্যাপারে নিশ্চিত না হলেও বিস্ফোরণের ফলে বাসার একটি কক্ষের দরজা, জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই বাসায় শেখ নসরুল্লাহ আহমদ (৩৬) নামে জামায়াতের এক সক্রিয় কর্মী তার দুই ভাইকে নিয়ে থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নাশকতার কাজে ব্যবহারের জন্য বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টায় নিচের তলার একটি কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটলে আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত লোকজন ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসেন। টহল পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই নসরুল্লাহ তার কয়েক সহযোগীকে নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে পুলিশ জানায়। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে নসরুল্লাহর মেঝো ভাই শেখ আসাদউল্লাহ আহমদ (৪০) ও ভাবী আসমাউল হুসনাকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৭৫০ গ্রাম গান পাউডার, কাঁচের টুকরা, ম্যাচসহ হাতবোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এসআই আনোয়ার বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছেন। মামলায় শেখ নসরুল্লাহ আহমদ, শেখ আসাদউল্লাহ আহমদ ও আসমাউল হুসনাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হবে। পুলিশ জানায়, নসরুল্লাহর বাবা ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। এলাকায় তার তিনতলা ভবনটি ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তার বাসা হিসাবে পরিচিত। নসরুল্লাহ’র বড় ভাই হাটহাজারীর বুড়িশ্চর জিয়াউল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক শেখ ফয়জুল্লাহ এবং মেঝো ভাই আসাদউল্লাহ জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়। আসাদুল্লাহ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তার ছোট ভাই নসরুল্লাহ এক সময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করতেন। পরে জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতায় নেতৃত্ব দিতেন নসরুল্লাহ। নাশকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে নিজ বাসায়ও নিয়মিত থাকতেন না নসরুল্লাহ। পুলিশ জানায়, নসরুল্লাহদের তিনতলা ভবনের নিচতলাটি গুদাম হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে রাখা একটি পরিত্যক্ত ফ্রিজের দরজা এবং বাথরুমের দরজা উড়ে গেছে। পুরো কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে গান পাউডার, বারুদ, তরল রাসায়নিক পদার্থসহ আরও বেশকিছু সরঞ্জাম। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে আসাদউল্লাহ বলেন, ফ্রিজের কমেপ্রসারের বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে বলেন, বিস্ফোরণ ঘটা কক্ষটিতে তারা কখনো ঢোকেন না। আসাদউল্লাহ পুলিশকে আরো জানান, বান্দরবানে তার আমবাগান আছে। ওই কক্ষে তিনি আমবাগানে ছিটানোর বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ রাখেন। গত ৭ অক্টোবর লালখান বাজার এলাকায় জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়। হেফাজতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুফতি ইজহার এ মাদ্রাসার পরিচালক।