বড় শহরে ১৪৪ ধারা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৮
রাজধানীতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটকে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ নিয়ে জনমনে ব্যাপক উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। দুই প্রধান জোট যেসব বিভাগীয় ও জেলা শহরে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছে সেসব জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। কোন কোন জায়গায় নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সারাদেশে বিরোধী দলের কয়েক’শ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। রাজধানী এবং নারায়ণগঞ্জের বাইরেও বিভিন্ন জেলা শহরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে বিরোধী দল শুক্রবার রাজধানীসহ সারাদেশের সমাবেশগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম করার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এসব সমাবেশ ঘিরে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষায় আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। অপরদিকে বিএনপিসহ বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তাদের সমাবেশে বাধা না দেয়ার জন্য সরকারকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোটকে পুলিশ শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক কিছুটা কমেছে। তবে যেসব শহরে দু’পক্ষ সমাবেশ করার ঘোষণায় অটল সেসব শহরের বাসিন্দারা চরম আতংকে রয়েছেন। শুধু জেলা বা বিভাগীয় সদর নয়, বিভিন্ন পৌরসভা ও থানা সদরে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বরিশাল অফিস জানায়, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য বরিশাল মহানগরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে আজ সকাল ১০টায় জনসভা করার অনুমতি চেয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি লিখিত আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানান। তবে যে কোন মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণায় দু’পক্ষ অটল থাকায় জনমনে উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। সিলেট অফিস জানায়, জেলা ১৮ দল যে কোন মূল্যে আজ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। যে কোন ধরনের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগও নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। নগরীতে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনসহ র্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। খুলনা অফিস জানায়, দু’পক্ষের সমাবেশকে ঘিরে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশংকায় খুলনায় গতকাল রাত ১২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যেও বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ তাদের পূর্বঘোষিত সমাবেশ করার অবস্থানে অটল রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে আতংক বিরাজ করছে। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ আজ শুক্রবার একই সময়ে সমাবেশ ডাকায় সমাবেশস্থলে গতকাল সকাল ৬টা থেকে আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় ১৮ দলীয় জোট ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সেখানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলে জনমনে তীব্র উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। আইন-শৃংখলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আর্মড পুলিশসহ তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও সংবাদদাতা জানান, বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে রূপগঞ্জ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এছাড়া আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা মহানগরী ও সদর দক্ষিণ উপজেলা, রংপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা, সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়ি প্রভৃতি জেলার সংশ্লিষ্ট সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। আজকের সমাবেশ ঘিরে নাশকতার আশংকায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী মহানগরে বিজিবি টহল শুরু করেছে। একই সময় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বসে বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে আলমগীর নামে এক শিবিরকর্মী আহত হয়েছে। মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা কার্যালয় চত্বর থেকে ২টি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ বিরোধী দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটে ৩২ জন, রাজশাহীতে ১৯, কুমিল্লায় ২৫, মুন্সীগঞ্জে ১৫, দিনাজপুরে ১৪, রংপুরে ১২, বরিশালে ১২, নারায়ণগঞ্জে ৫, সিলেটে ৪, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪, বাগেরহাটে ২, চাঁদপুরের কচুয়ায় ২ এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থেকে ১ জন করে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মহাসড়কসহ শহরগুলোতে যান চলাচল কম বিভিন্ন মহাসড়কে গতকাল দুপুর থেকে যান চলাচল কমে গেছে। ভাংচুরের ভয়ে অনেকেই গাড়ী বের করেননি। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য মহাসড়কে গতকাল দুপুরের পর থেকে যানবাহন চলাচল কমে আসে। রাজধানীতেও যান চলাচল অনেকটা কমে আসে। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকেও আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন শহরে যান চলাচল কমে আসে।