আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে অনেক সময় মানবিকতা কিংবা মমতার কাছে হেরে যায় আইন। দুই বছরের শিশু ইসরাত জাহান রিয়ার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে এমন বিরল দৃষ্টান্ত। আদালতের নির্দেশে সে ফিরে পেয়েছে আপন ঠিকানা। জন্মদাতা মাদকাসক্ত পিতার পরিবর্তে সে বড় হবে পালক মা কোহিনুর বেগমের কাছে। গত ২২ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ফুটফুটে শিশু রিয়ার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল আদালত রিয়াকে তার পালক মা কোহিনুর বেগমের কাছে থাকার নির্দেশ দেয়।
তার জন্মদাতা পিতা শাহ সুলতান মাদকাসক্ত এবং তার মা সাজেদা বেগম কাজল ছিন্নমূল জীবন-যাপন করেন। মায়ের পক্ষে রিয়াকে নিয়ে বেঁচে থাকা দুঃসহ ও কষ্টকর। মাদকাসক্ত স্বামী কাজল কিংবা তার সন্তানদের খোঁজ-খবর নেয় না। অন্যদিকে রিয়ার পালক মা কোহিনুর বেগমের সুন্দর ও স্বাস্থ্যবান পরিবেশে রিয়া বেড়ে উঠছে। রিয়াকে পালক মায়ের কাছ থেকে নিয়ে পাচার কিংবা বিক্রি করার জন্য স্ত্রী কাজলকে মারধর করে আসছিল সুলতান। অবশেষে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
রিয়া যদি তার মাদকাসক্ত পিতার কাছে ফিরে যায় তাহলে তার ভবিষ্যত্ জীবন অন্ধকারে চলে যাবে। মাদকাসক্ত পিতার কাছে বেড়ে উঠলে রিয়া অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। আদালতের প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রিয়ার পিতা সুলতান মেয়েকে নিজের কাছে নেয়ার পর নেশার উপকরণ কেনার জন্য পাচার কিংবা অন্যত্র বিক্রি করে দিতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সিএমএম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে শিশু রিয়ার সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে একজন সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রিয়াকে তার লালন-পালনকারী মা কোহিনুর বেগমের কাছে থাকার নির্দেশ দেন। ঐ সময় শিশু রিয়া আদালতে তার লালন-পালনকারী মা কোহিনুর বেগমকে দেখে মা বলে চিত্কার করে জড়িয়ে ধরে। তার গর্ভধারিণী মা কাজল উপস্থিত থাকলেও তাকে রিয়া চিনে না। এ পরিস্থিতিতে শিশু রিয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তাকে লালন-পালনকারী কোহিনুর বেগমের আবাসস্থল বলে নির্দেশ দেয় আদালত। রিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, এডভোকেট চৈতন্যচন্দ্র হালদার, এডভোকেট হোসেন আলী খান হাসান, এডভোকেট আশরাফুল আলম ও এডভোকেট শাহ জামাল তুহিন।
