জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ভিসি প্যানেল নির্বাচন দিয়ে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট থেকে সিনেট সদস্য নির্বাচন এবং জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে ভিসির এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক ফোরাম। কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে শিক্ষক সমিতি। আবার শিক্ষক সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছে শিক্ষকদের অন্য একটি অংশ সাধারণ শিক্ষক পর্ষদ। সার্বিক বিবেচনায় আসন্ন প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটছে না।
বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনা হয়। সভায় আন্দোলনকারী শিক্ষক ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক হানিফ আলী এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক কামরুল আহসান এবং ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ছাড়াও সভায় শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে দ্রুততম সময়ে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের তাগিদ দেয়া হয় এবং তাকে প্রার্থী না হওয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা রিট প্রত্যাহারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও বলা হয়। সম্প্রতি সময়ে দুইজন প্রভোস্টকে দেয়া অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহারেরও আহবান জানানো হয়।
গতকাল সাংবাদিক সম্মেলন করেন ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। এতে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভার বৈঠক থেকে বেশকিছু সিদ্ধান্ত জানান । আন্দোলনকারী শিক্ষকগণ আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে ভিসিকে প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করবেন।
তিনি জানান, স্থায়ী কমিটির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত রয়েছে। তা হলো: অব্যাহতি দেয়া দুজন প্রভোস্টের অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করা হবে,হাইকোর্টের রিট প্রত্যাহারের জন্য শিক্ষকদের অনুরোধ, ৬ ডিসেম্বর জাকসু ও হল ইউনিয়নসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠান, সিনেট রেজিস্ট্রার্ড গ্রাজুয়েট নির্বাচনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা এবং খুব শীঘ্রই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং নিজে এতে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা।
ভিসির এ বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে বিকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে সাধারণ শিক্ষক ফোরাম। তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসনে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে ভিসি জাকসুসহ অন্যান্য নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তবে তাদের কর্মসূচি পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্থগিত থাকবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কি উদ্যোগ নেয়া হয় তার প্রতি দৃষ্টি রাখবে। ফোরামের আহবায়ক অধ্যাপক হানিফ আলী জানান, ভিসি প্রত্যেকদিন একটি নতুন করে সংকট সৃষ্টি করছেন। তার চলে যাওয়াই এখন একমাত্র সমাধান।
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শরিফ উদ্দীন। তিনি বলেন, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ভিসির অপসারণ দাবি করছি এবং কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে এক বিবৃতি দিয়েছে সাধারণ শিক্ষক পর্ষদ। অধ্যাপক আহমেদ রেজা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সমিতির সভাপতি নিজে থেকেই অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন যা গঠনতন্ত্র বিরোধী।
