ফরিদগঞ্জ চকরিয়া জলঢাকায় পুলিশের গুলি, নিহত ৬

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ বাসে আগুন, আহত কয়েকশ’ ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে মিছিলের চেষ্টা কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের পাল্টা সমাবেশ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাইরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন যুবদল কর্মী মারা যান। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি উপজেলা সদরে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে মিছিল করার চেষ্টা করেন বিরোধী নেতাকর্মীরা। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে বিজিবি-পুলিশ গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুই বিএনপি কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নীলফামারীর জলঢাকায় পুলিশের গুলিতে স্থানীয় এক শিবির কর্মী মারা গেছেন। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জামায়াত-বিএনপির মিছিল চলাকালে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ছোঁড়া ইটের আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর করাসহ আরো কিছু দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অনেক জায়গায় ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার চেষ্টা করে তারা। যশোর, রংপুরসহ অনেক স্থানে পাল্টা সমাবেশ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। এ সময় পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, বান্দরবান, লক্ষ্মীপুরসহ অনেক স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাংচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাকর্মীসহ কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হন। ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, বিএনপি-জামায়াত, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ফরিদগঞ্জে অন্তত ৩ জন নিহত, পুলিশ, সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক লোক আহত এবং অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। নিহতরা হলেন বারপাইকা গ্রামের যুবদল নেতা আরিফ (২৩), পাইকপাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর (৩২) এবং খেজুর তলা গ্রামের যুবদল নেতা শরীফ (২৫)। এদিকে পুলিশের গুলিতে যুবদল নেতা নিহতের প্রতিবাদে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে উপজেলা সদরে ১৮ দল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় পুলিশ ও বিজিবি অন্তত ৫ শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ জন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপি বৃহস্পতিবার সমাবেশের জন্য অনুমতি চাইলেও প্রশাসন অনুমতি না দিয়ে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শহরে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৮ দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিল শুরু করার প্রায় আধঘন্টা পর পুলিশ ও বিজিবি মিছিল লক্ষ্য করে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলে চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মুক্তার আহমদের পুত্র স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাদশা (২৮) ও বিএনপি কর্মী কাকারা ইউনিয়নের মাইজকাকারা গ্রামের শাহ আলমের পুত্র মো. মিজান (১৬) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন অর্ধশতাধিক। এদের মধ্যে পৌরশহরের ২ নং ওয়ার্ডের ফজল আহমদের পুত্র জমির উদ্দিন, মো. আমিনের পুত্র তোফায়েল, কাকারা ইউনিয়নের পুলেরছড়া গ্রামের আহমদ কবিরের পুত্র আশেকউদ্দিনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার দাবি করেন, প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেও জনতা তা ভঙ্গ করে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল বের করে। কিন্তু বিজিবি ও পুলিশ বিনা উস্কানিতে মিছিলে গুলি চালিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী উপজেলা বিএনপি, যুবদল, জামায়াত এবং শিবিরের প্রায় তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিকেলে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের আল-মদিনা হাসপাতালের সামনে মিছিল নিয়ে আসে। এ সময় তারা জোর করে স্থানীয় বাজারে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পিছন দিক থেকে শিবিরের কর্মীরা পুলিশকে ইট পাটকেল মারা শুরু করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে প্রথম টিয়ারগ্যাস সেল ও পরে গুলি করে। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এর আগে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জেলা বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারসহ শতাধিক লোক আহত হন। পুলিশ এই ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে। জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরে জামায়াত, বিএনপি’র সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে শিবির কর্মী মোসলেমউদ্দিন (২০) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি স্থানীয় কাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা। দুপুরে পৌর শহরের পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসলে পুলিশ শহরে ঢুকতে বাধা দেয়। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে পুলিশ ও র্যাব শতাধিক টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট এবং ৭ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। পিকেটাররা ৩টি কোচ ভাংচুর ও ১টিতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও শ্যামনগর সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলীয় জোটের মিছিল করার সময় বিএনপি কর্মী শফিকুল ইসলাম (৪০) মারা গেছেন । তিনি শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের আনছার শিকারির ছেলে। শ্যামনগর থানার ওসি সাগীর মিয়া জানান, সকালে উপজেলার কাশিমাড়ি এলাকায় মিছিল করার সময় হঠাত্ শফিকুল অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে নিহতের পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, মিছিলটি উপজেলার নতুনহাটে পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকের বাড়ি থেকে মিছিলে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এসময় শফিকুলের বুকে একটি ইট লাগলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। এদিকে কলারোয়া উপজেলার বাটরা বাজারে জামায়াত-শিবিরের হামলায় আ’লীগ কর্মী হাফিজুর রহমান আহত হয়েছেন এবং সদর উপজেলার আগরদাড়ী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক তাপস আচার্যের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। খুলনা অফিস জানায়, শর্তসাপেক্ষে সকালে অনুমতি পাওয়ার পর বিকেলে নগরীর ডাকবাংলা মোড়ের অদূরে সোনালী ব্যাংক চত্বরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশস্থল ও তার আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা ছিল। এদিকে মঞ্চের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় দলের ৪-৫ জন কর্মী আহত হন। সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, বিএনপি নেতা সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। রাজশাহী অফিস জানায়, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই রাজশাহীতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। অন্যদিকে অনুমতি পেয়েও সমাবেশ করতে মাঠে নামেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা টের পেয়ে মাঠে ছিল না হেফাজতের কর্মীরা। আশঙ্কা সত্ত্বেও জামায়াত-শিবির আলাদা কোনো কর্মসূচি পালন করেনি। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সন্ধ্যায় পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কোতোয়ালি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারসহ ১০ জন পুলিশ ও বিএনপি’র ১০ কর্মীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা বিএনপি বিকালে উত্তর বাজার কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুরাতন রাজস্ব ভবনের সামনে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলার কচুয়ায় মাদারতলা এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২ বিএনপি নেতার অবস্থা আশংকাজনক। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল করাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। কাউখালী (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে সরকার সমর্থকের পাথর ছোঁড়াকে কেন্দ্র করে দ্বিমুখী সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে আটজন। প্রায় দুঘন্টা ব্যাপী চলা সংঘর্ষে উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা সোনালী ব্যাংক অ্যাম্বুলেন্স দোকানসহ অন্তত ৮টি যানবাহন ভাংচুর করে। পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার শিয়ালী এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ৭ জনকে পটুয়াখালী জেনারেল হাপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক জেলা কৃষকদলের সভাপতি এস.এম. আবদুর রব ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাউফলে সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বিএনপি অফিস অতিক্রমকালে ইট-পাটকেল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ঐ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে আহত হয় কমপক্ষে ৩০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ২ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। নেত্রকোনা প্রতিনিধি ও কলমাকান্দা সংবাদদাতা জানান, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১৮ দলীয় জোট বিকাল ৩টার দিকে মিছিল বের করলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে কলমাকান্দায় ওসি (তদন্ত) আমির উদ্দিনসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। নেত্রকোনা পৌর এলাকার হোসেনপুরস্থ ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে ১৮ দলের লোকজন হামলা চালিয়ে ৩টি বাস ভাংচুর করেছে। জেলা ও কেন্দুয়া বিএনপি অফিস পুলিশ তালাবদ্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বিরোধী দলের ১৫ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বারহাট্টা উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, জেলা সদরে যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ওসিসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন। নাইক্ষ্যংছড়িতে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ১৮ দলের সমাবেশ থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ইনডিপেনডেন্ট টিভির জেলা প্রতিনিধি আবু ছালেহ মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরী শওকতসহ ৫ জন আহত হয়। যশোর অফিস জানান, নিরাপত্তার চাদরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বর ও মণিহার মোড়ে আওয়ামী লীগ ও ১৮ দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে শহরে বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগ- বিএনপি দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কমপক্ষে ৮০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন আহত হয়েছেন। উত্তেজিত জনতা সীমান্ত কমপ্লেক্সের সামনে একটি মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার ফেসটুন, বিলবোর্ড ভেঙ্গে ফেলে। হামলাকারীরা কসবা পুরাতন বাজারের বেশকয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌর শহর ও আশ-পাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আহতদের মধ্যে উপজেলা যুবদল সভাপতি মো. উসমান হারুনুর রশিদ ওরফে শাহিন, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক ওরফে দীপু ও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আশরাফ আলী রয়েছেন। জিয়ানগর (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে শিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বালিপাড়া চরবলেশ্বর ফয়জুল উলুম কওমী মাদ্রাসার সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে কুপিয়ে মাথায় মারাত্মক জখম করা হয়। সভাপতির উপর হামলার প্রতিবাদ করায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম ও ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক বারেক হাওলাদারকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করা হয়। মোস্তাফিজুর রহমানকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমানের উপর হামলার প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর বালিপাড়ায় চরবলেশ্বর বিএনপির কর্মী মতিউর রহমান ফকিরের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। বিকালে চরবলেশ্বর গ্রামের মাতুব্বর বাড়ীর সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বি.কম মজিদের উপর হামলা চালায় জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। সন্ধ্যায় বালিপাড়ার কেওয়াবুনিয়া গ্রামে যুবলীগ কর্মী আল আমিন মাঝিকে বেঁধে রাখে বিএনপির কর্মীরা। রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল ও হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে প্রায় ২০ মিনিট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। গাজীপুর প্রতিনিধি ও শ্রীপুর সংবাদদাতা জানান, শ্রীপুরে বিকেলে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় অন্তত: ২০ জন আহত হয়েছেন। ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, বিকালে বিএনপি-শিবির মিছিল করার সময় শহরের কলেজ রোড থেকে রেলগেট পর্যন্ত দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পরে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়। মিছিল থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের উপর ককটেল নিক্ষেপ করলে টাউন হাবিলদার হাফিজুর রহমান আহত হন এবং তার মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিএনপি’র ১৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বাড়বকুণ্ডে জামায়াত-শিবিরের হামলায় ৭ পুলিশসহ আওয়ামী লীগের ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শুকলাল হাট এলাকায় আওয়ামী লীগের সভা চলাকালে জামায়াত-বিএনপি কর্মীরা এই হামলা করে। এ সময় ৬টি দোকান ভাংচুর ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় তারা। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুকলাল হাট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ অফিসসহ প্রায় ১৫টি দোকান ভাংচুর ও ৪টি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনোহরগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে উপজেলার কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। সংঘর্ষে উভয় দলের নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৫০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ওসি (তদন্ত) আছাবুর রহমান, এসআই তাজুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, আটোয়ারীতে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ৭ নেতাকর্মীকে আটক করে। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, শহরে বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষে ২ পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ৩টি মোটরসাইকেল এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে থাকা ৩টি গাড়িসহ ৬টি গাড়ি ভাংচুর করে। রাণীশংকৈল সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের রাণীশংকৈল হাসপাতালে নেয়া হয়। টিয়ার গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, উপজেলা সদরে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত জামায়াত-শিবির কর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়, রামগঞ্জ জিয়া অডিটোরিয়াম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ৫টি মোটরসাইকেল ও ১২টি বাস ভাংচুর করে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগের শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, বিএনপি নেতা মফিজুল ইসলামসহ কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের রামগঞ্জ, চাটখিল ও হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশ থেকে ১২ জনকে আটক করেছে।