তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো সময় সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার আহ্বান জানাতে পারেন। গতকাল শুক্রবার সকালে গুলশানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে দ্বিতীয় সাব-রিজিওনাল ওয়ার্কশপের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে ‘আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক’ যোগাযোগ হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান হবে- এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তাব যদি না মানা হয়, সংলাপে যদি তারা না আসেন, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরাই আলোচনার সূত্রপাত করবো। প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবো, রাষ্ট্রপতির পরামর্শ নেবো। নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হওয়ায় শুক্রবার থেকে বর্তমান মহাজোট সরকার অবৈধ হয়ে গেছে বলে খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা ‘সাংবিধানিক বিরোধী’ উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এ সরকারই সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বিরোধী দলীয় নেতাকে তার ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান তিনি।
গত ১৮ অক্টোবর শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কাছে তাদের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রতিনিধিদের নাম আহ্বান করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ইতিমধ্যেই জাতীয় পার্টি (এ) ও ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গেও আলোচনায় বসবেন। এ আলোচনার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়াকে সরাসরি ফোনও করবেন তিনি।
গতকাল গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিইউপি) এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে ’দ্বিতীয় সাব-রিজিওনাল ওয়ার্কশপ অন কমিউনিটি রেসিলিয়েন্স টু ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন দ্যা বে অব বেঙ্গল’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী দারিদ্র্য বিমোচনে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশ, বিদ্যুত্ ও পানি সমস্যার পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিদ্যমান জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সার্ক দেশগুলোর প্রতি আহবান জানান।
পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের(পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড সামছুল আলম, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড.এ কে এম মুসা, ভারতের লোকসভার সদস্য ড. অনুপ কুমার সাহা, ড. কে এ হক প্রমুখ।
