বাগমারার সেই খয়রা বিল অবশেষে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত হলেও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের নির্দেশ এখনো কার্যকর করা হয়নি। জেলেদের অভিযোগ, দখলদারদের লাভবান করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সহকারী কমিশনার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির দপ্তরে পৌঁছেছে। জানা যায়, শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালীরা কিছু কৃষকের জমি ইজারা নিয়ে পুরোবিল দখল করে মাছ চাষ শুরু করেন। অপরদিকে স্থানীয় জেলেরাও মাছ ছাড়েন। পরে মাছ ধরা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে প্রশাসন গত ১৫ আগষ্ট বিলে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ সময়ের মধ্যে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মাছ ধরা ও খাবার দেয়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশকিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু দীর্ঘ দু’মাস ধরে বিলে মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছে। এসব বিষয়ে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি বিলটি উম্মুক্ত রাখার মতামত দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিলে জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার ও তা উম্মুক্ত রাখার জন্য রাজশাহী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশনা প্রদান করেন। এরফলে জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে রাজশাহী পুলিশ সুপার ও বাগমারা থানার ওসিকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়। এ চিঠির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও দেয়া হয়েছে। চিঠিতে উভয়পক্ষকে ডেকে মুচলেকা নেয়ার পর এ ঘোষণা দেয়ার জন্য বলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তারা প্রথমে এ চিঠি পাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও সাংবাদিকরা চিঠির ফটোকপি দেখালে পরে স্বীকার করেন।
