পোশাক শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করুন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২১
শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধ সম্পদ ও ঘন ঘন হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির পরও বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে রয়েছে। একথা অনস্বীকার্য যে, আজকের এই অবস্থানের পেছনে সিংহভাগ সাফল্যের দাবিদার পোশাক শ্রমিকেরা। যাদের কষ্ট-সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠার কারণেই বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে এবং সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নিজেদের একটি সুদৃঢ় অবস্থান ও ভাবমূর্তি স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বেতন বিশ্বের যে কোনো দেশের পোশাক শ্রমিকদের তুলনায় অত্যন্ত কম। শুধু তাই নয়, দেশের অন্য যে কোনো শিল্পের তুলনায়ও সেটি অত্যন্ত নগণ্য। আবার এই শ্রমিকরাই আগুনে পুড়ে ও ভবন ধসে চাপা পড়ে বিসর্জন দিচ্ছে তাদের জীবন। এমনই দুর্ভাগা দেশ আমাদের। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের পরিবার পায় না সঠিক ক্ষতিপূরণটুকুও। আমরা সবাই জানি বর্তমানে আমাদের দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হচ্ছে তৈরি পোশাক শিল্প। বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এটিই আমাদের সবচেয়ে সফল শিল্পখাত। যা থেকে আমরা পাই দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় আশি শতাংশ। কাজেই এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বেতন তথা জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে উদাসীন থাকা কারো কাম্য হতে পারে না। তাই আমরা আশা করবো, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবে। সেইসঙ্গে মালিক, শ্রমিক, সরকার ত্রিপক্ষীয় আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরি পোশাক শিল্প আরো সমৃদ্ধশালী হবে। তারেক আজিজ, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ