সালমান কবির
পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল
ছেলেবেলা থেকেই খুব মিশুক প্রকৃতির ছিলেন তিনি। বন্ধুদের আড্ডায়, পারিবারিক সম্মিলনেও মধ্যমণি হয়ে থাকতেন সব সময়। সবাইকে খুব মাতিয়ে রাখতে পারতেন সবকিছুতে। যেকোনো পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারতেন তিনি। সদালাপী এই ছেলেটিই দেশের অন্যতম পাঁচতারকা হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার এখন। মিডিয়ার সাথে সার্বিক যোগাযোগের কাজটি তিনিই করে থাকেন। সবার কাছে তাদের সর্বশেষ আয়োজনের খবরটিও তিনি পৌঁছে দেন। এর বাইরে ব্র্যান্ডিংয়ের মতো সৃজনশীল কাজেও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। আক্ষরিক অর্থেই একজন দক্ষ জনসংযোগ কর্মকর্তার সব গুণ নিয়ে পথ চলেছেন সালমান কবির। পারিবারিকভাবেই ব্যবসায়িক বিষয়গুলোতে আগ্রহ ছিল তার। সালমান কবির সফলতার সাথে ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করার পর ভর্তি হন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএতে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করে সুযোগ পান ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোতে ইন্টার্নশিপ করার। সালমান মার্কেটিংয়েই নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন, তাই যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়্যারউইক থেকে মার্কেটিংয়ে মাস্টার্স করেন। দেশে ফিরেই যোগ দেন প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার হিসেবে। বছরখানেক ধরে সফলতাকে সঙ্গী করে এই পদে রয়েছেন তিনি। সীমিত সময়েই সহকর্মী, গণমাধ্যম এবং গ্রাহকদের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়েছেন। সালমান কবিরের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের জটিল বিষয়গুলো কীভাবে সামাল দিচ্ছেন? তিনি জানালেন, এ বিষয়গুলোর মুখোমুখি হতে কতগুলো গুণ থাকা আবশ্যক। প্রথমেই নিজেকে প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। নিজের কথাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। মিডিয়া সম্পর্কে গতানুগতিক নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বসে না থেকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আর দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, দক্ষতা থাকতে হবে ব্যবস্থাপনায়। সালমান কবির নতুনদের এই সালমান নিজেও স্বপ্ন দেখেন একটা সময় মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের সৃজনশীল দিকগুলো নিয়ে স্বতন্ত্রভাবেই কাজ করবেন। সালমান কবিরের ছেলেবেলা কেটেছে ঢাকাতেই। গ্রিনহেরাল্ড থেকে ‘ও’ লেভেল আর ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন। তার বাবা বেঙ্গল গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আর মা গৃহিণী। একমাত্র বোন তমা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নিজেকেই নিজে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সব সময়।
সালমান কবির
ডাকনাম :সালমান
মায়ের নাম :সালমা কবির
বাবার নাম :এসএ কবির
জন্ম তারিখ ও স্থান :২১ নভেম্বর, ঢাকা
প্রিয় পোশাক :জিন্স টি-শার্ট
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
অবসর কাটে যেভাবে :বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় সাফল্যের সংজ্ঞা, তবে আকাঙ্ক্ষিত জায়গাতে পৌঁছানোটাই সফলতা।
০০০০
এম মাহফুজুর রহমান
মার্কেটিং ম্যানেজার-মিডিয়া, কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড
প্রতিটি মানুষের জীবন একটি সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়েই শুরু হয়। এম মাহফুজুর রহমানও এর ব্যতিক্রম নন। পরিচিতজনদের কাছে যিনি টুটুল হিসেবেই বেশি পরিচিত। পেশাগত জীবনের শুরুটা হয়েছিল তার কনকর্ড গ্রুপের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে। এরপরে তিলে তিলে তার অর্জন তাকে আজকের অবস্থানে উন্নীত করেছে। আজ তার এই অবস্থানের পেছনে শুধু তার পিতা-মাতা নয়, সাথে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীও জড়িত। তাদের জন্য মনের অন্তঃস্থল থেকে সব সময় শুভকামনা করেন তিনি, কেননা সকলের সহযোগিতা এবং প্রেরণা তার বর্তমান অবস্থানের মূল উত্স। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে মাহফুজুর রহমানের শৈশব-কৈশোর কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাদ-গন্ধ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। বাবা-মা, বোন, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নওশাবাকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ। সবারই ইচ্ছে থাকে একটু ব্যতিক্রমধর্মী কিছু করার। সবাই চায় কাজের ক্ষেত্রটি হবে সৃজনশীল, সেখানে কাজের মাঝেও থাকবে নানা বৈচিত্র্যের ছোঁয়া; যা কর্মক্ষেত্রকে করে তোলে স্বাচ্ছন্দ্যময়। আমাদের দেশে এত পেশা থাকতে আপনি কেন এই পেশাটা বেছে নিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়া হচ্ছে আলোকিত সৃজনশীল মানুষদের জন্য। এর ভেতরে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন ধরনের চিন্তার প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব। আমি নিজেকে এ রকম সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি এবং এই কাজের জন্য যে চ্যালেঞ্জ তা মোকাবেলা করতে আমার ভালো লাগে, তাই এই পেশাতে আমার আসা।’ সফলতার পাশাপাশি এই পেশায় মাহফুজুর রহমানের আত্মসন্তুষ্টির পরিধিটাও বিশাল এবং এই কাজের মধ্যে সম্পূর্ণ তৃপ্তি খুঁজে পান বলেই এই কাজে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তিনি জানালেন, মার্কেটিং পেশার প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তার মতে, ‘এই পেশাটি অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী পেশা। এই পেশাতে নিজের স্বকীয়তা প্রকাশের অনেক সুযোগ রয়েছে, তাই সৃজনশীল মানুষদেরই এই পেশাতে আসা উচিত।’ আর এ প্রজন্ম সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি জ্ঞান-বুদ্ধিতে সমৃদ্ধ। তারা এই জ্ঞান ভালো কাজে লাগিয়ে আমাদেরকে একটি আদর্শ জাতি উপহার দেবে—এটাই আমার আশা।’ পরিশেষে মাহফুজুর রহমান ‘সকলের তরে সকলে আমরা’ এই মর্মে একমত পোষণ করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন।
এম মাহফুজুর রহমান
ডাক নাম :টুটুল
জন্মতারিখ ও স্থান :৫ সেপ্টেম্বর, কুষ্টিয়া
মায়ের নাম :মাহফুজা রহমান
বাবার নাম :মীর লুত্ফর রহমান
প্রথম স্কুল :রাজশাহী মডেল স্কুল
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় পোশক :জিন্স ও টি-শার্ট
অবসর কাটে যেভাবে :বই পড়ে, টিভি দেখে
সাফল্যের সংজ্ঞা :আত্মার সন্তুষ্টি থাকলেই সেই কাজটিতে আমি নিজেকে সফল বলে মনে করি।
০০০০
মুহাম্মদ ফিরোজ আলম
সহকারী পরিচালক, পিআর মিডিয়া অ্যান্ড ব্র্যান্ডিং
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
শুরুটা হয়েছিল জিরো প্লাস নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ হিসেবে। এখানেই মুহাম্মদ ফিরোজ আলমের ব্র্যান্ডিংয়ের হাতেখড়ি। তারপর আরও কিছু প্রতিষ্ঠান ঘুরে ২০০৭-এ ওয়ালটনে যোগদান করেন। মূলত ব্র্যান্ডিংয়ের মূল চ্যালেঞ্জ এবং মজাটা এখানে এসেই অনুভব করেন তিনি। এখানে তিনি শিখেছেন কিভাবে একটি পণ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করা যায়। বর্তমানে তিনি আমাদের উত্পাদিত পণ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও আর্ন্তজাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করে চলেছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান মুহাম্মদ ফিরোজ আলম। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার চাকরির সুবাদে ছেলেবেলা কেটেছে দেশের বিভিন্ন মফস্বল অঞ্চলে। প্রতিবছর স্কুল বদলাতে হতো। অবশ্য এতে করে তার দেশের অনেক অঞ্চলের মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। যেটা পরবর্তীকালে তার কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় খুব কাজে লাগছে। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, মা গৃহিণী। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে ফিরোজের অবস্থান তৃতীয়। স্ত্রী রোকসানা পারভীন একজন স্কুল শিক্ষিকা। মধুপুর শহীদ স্মৃতি হাই স্কুল, টাঙ্গাইল থেকে এসএসসি পাস করার পর মুহাম্মদ ফিরোজ আলম লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তারপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আমাদের দেশে এত পেশা থাকতে আপনি কেন এই পেশাটা বেছে নিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ফিরোজ বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। ছোটবেলা থেকেই আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। আমরা যারা ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করি আমাদের সব সময় দেশের এবং আন্তর্জাতিক বাজার ও ভোক্তাদের প্রতি লক্ষ রাখতে হয়। দ্রুত ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা করতে হয়। অর্থাত্ প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।’ সফলতার পাশাপাশি এই পেশায় অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ফিরোজ। তার মতে, অন্যকোনো পেশায় তিনি এতটা উন্নতি করতে পারতেন না। এই প্রজন্ম সম্পর্কে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন প্রজন্মের ব্র্যান্ড এক্সিকিউটিভ ও ম্যানেজারদের নিয়ে খুবই আশাবাদী। আমাদের দেশের পণ্যকে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ম্যানেজারের দায়িত্বে আছেন এদেশের ছেলেমেয়েরা।’
মুহাম্মদ ফিরোজ আলমের এখনকার জীবন আর ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সবই ওয়ালটনকে ঘিরে। তিনি স্বপ্ন দেখেন ওয়ালটনকে একদিন বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডে পরিণত করার। তার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, আর তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি যারা যুদ্ধ করছে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য। এটাই জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।
মুহাম্মদ ফিরোজ আলম
ডাক নাম :ফিরোজ
জন্মতারিখ ও স্থান :১৭ অক্টোবর, টাঙ্গাইল
মায়ের নাম :ফরিদা আলম
বাবার নাম :মুহাম্মদ শামসুল আলম
প্রথম স্কুল :মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেত্রকোনা
প্রিয় মানুষ :এসএম আশরাফুল আলম
প্রিয় উক্তি :ভালো আছেন, আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো থাকবেন।
প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট
সাফল্যের সংজ্ঞা :আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
