ডেন্টাল সার্জন

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৩
শারমিন মাহবুব ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন কী পড়বেন, কোথায় পড়বেন, আর কেনইবা পড়বেন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের ছেলেবেলার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছাটাকেই প্রাধান্য দিলেন। পরবর্তীতে পাবলিক হেলথে এমএস সম্পন্ন করেন ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন শারমিন মাহবুব। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই সেবাধর্মী পেশাতে আসতে আগ্রহী, কিন্তু পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা সম্ভাবনাময়? এই প্রশ্নের উত্তরে শারমিন বলেন, ‘উন্নত দেশের তুলনায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, তবে সুখের বিষয়, দিন যতই যাচ্ছে মানুষ সচেতন হচ্ছে দাঁতের যত্নে। শুধুই সুস্থ থাকাই নয়, সৌন্দর্য চর্চায় আজ এটি একটি মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই অসংখ্য ছেলেমেয়ে ডেন্টাল সার্জন পেশায় যোগ দিচ্ছে, কেউবা সরকারিভাবে বিভিন্ন হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটে, কেউবা নিজেই সুন্দর একটা চেম্বার সাজিয়ে কাজ শুরু করছে। এটা একদিক দিয়ে ভালোই। তবে তারচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এখন অনেকেই বিডিএস কোর্স সম্পন্ন করার পরপরই উচ্চশিক্ষায় নজর দিচ্ছে, এর ফলে অভিজ্ঞ আর প্রশিক্ষিত হাত বাড়ছে। অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আমাদের দেশের ডেন্টালসহ চিকিত্সার সব বিষয়কেই আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদী আমি।’ আধুনিক দন্তসেবাকে সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রজন্মের এই ডেন্টাল সার্জন নতুনদের উদ্দেশে বললেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সিনিয়রদের থেকে শিখতে হবে, বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে হবে, প্রয়োজন রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের সেমিনারগুলোতে যোগ দেওয়ারও। আর এগুলোর সবই নিজেকে একধাপ এগিয়ে রাখে সবসময়, আর এগিয়ে থাকাটা সময়েরই দাবি।’ ‘দেশের অনেক মানুষ দন্তসেবার ব্যাপারে সচেতন হলেও বেশিরভাগ মানুষই উদাসীন’ ডা. সাদিয়া রহমান শশী প্রভাষক, ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজ বাবা-মা ভর্তি করিয়ে দিলেন আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদের খুব শখ, মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু কম্পিউটার নামক যন্ত্রটা মেয়েটিকে বিন্দুমাত্র আকৃষ্ট করত না। শেষমেশ প্রকৌশলশাস্ত্র ছেড়ে মামা প্রফেসর ডা. মোজাম্মেল হোসেনের প্রেরণায় ভর্তি মেয়েটি ভর্তি হলো ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজে। কিছুদিন পড়ার পর বিষয়টি ভালো লেগে গেল তার। কে জানত সেইদিন যে নিতান্তই মামার কথায় ডেন্টালে ভর্তি হয়েছিল, সেই একদিন তার নিজের কলেজেরই শিক্ষক হয়ে যাবে। ইউনিভার্সিটি ডেন্টাল কলেজের প্রভাষক সাদিয়া রহমান শশী সেটা প্রমাণ করেছেন। নিজের আগ্রহ আর যোগ্যতায় তার আজকের অবস্থান তৈরি করেছেন। এই পেশা নিয়ে তার ভাবনার কথা বলতে গিয়ে শশী বলেন, ‘দাঁতের ব্যথায় কাতর মানুষদের স্বস্তির জন্য যেতে হয় ডেন্টাল সার্জনদের কাছে। তাদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করাই ডেন্টাল সার্জনদের কাজ।’ কাজ নিয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধ সম্পর্কে ডা. সাদিয়া রহমান বলেন, ‘এ কাজে আমি শতভাগ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। রোগীদের সেবা করার পর তাদের হাসিমুখ এ কাজের সেরা প্রাপ্তি। একইসাথে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সফলতাও আমাকে অনেক আনন্দ দেয়।’ পেশা হিসেবে আমাদের দেশে ডেন্টাল সার্জনদের কাজের অনেক সুযোগ থাকলেও বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানালেন তিনি। দেশের অনেক মানুষ দন্তসেবার ব্যাপারে সচেতন হলেও বেশিরভাগ মানুষই উদাসীন। কিন্তু মুখগহ্বরের ক্যান্সার থেকে শুরু করে যেকোনো রোগ এড়ানোর জন্য বছরে অন্তত দুইবার চিকিত্সকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তা ছাড়া দন্ত চিকিত্সায় হাতুড়ে ডাক্তারদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। এই প্রজন্মের এই ডেন্টাল সার্জন বললেন, ‘যদি মানুষ আরও সচেতন হয়, তাহলে তাদের দিক দিয়ে তারা যেমন নিরাপদ থাকবে, সেইসাথে এই পেশাও আমাদের দেশে জনপ্রিয় হবে। কারণ এত কম খরচে আন্তর্জাতিকমানের দন্তসেবা আমরাই দিচ্ছি।’ ‘দন্ত চিকিত্সা শাস্ত্রে সংক্ষিপ্ত রাস্তা ধরে সাফল্য অর্জন সম্ভবপর নয়’ ডা. মো. মাসুদুর রহমান আবাসিক সার্জন, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অবশেষে ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান ঢাকা ডেন্টাল কলেজের আবাসিক সার্জন ডা. মো. মাসুদুর রহমান। পেশা হিসেবে এটা আমাদের দেশে কতটা উপযোগী—এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব দেশে এ পেশা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে শুরুর দিকে। তারপরও এটি একটি যুগোপযোগী পেশা।’ এই পেশা নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুন যারা এ পেশাতে কাজ করছে তারা প্রত্যেকেই অনেক বেশি মেধাবী এবং সৃষ্টিশীল। যেহেতু এখন কাজের জায়গাটা অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ তাই কাজের ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ যোগ্যতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। সেজন্য যারাই এ পেশাতে কাজ করতে আসছে তারা সবাই তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেই তবে আসছে। তবে একটা বিষয়ের প্রতি নতুনদের অনেক বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন তা হলো জ্ঞানার্জনের পরিধিটা বিস্তৃত করা। এজন্য বেশি বেশি বই পড়তে হবে। দন্ত চিকিত্সার জন্য ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে তা কাজে লাগাতে হবে। তবে দন্ত চিকিত্সা শাস্ত্রে সংক্ষিপ্ত রাস্তা ধরে সাফল্য অর্জন সম্ভবপর নয়। জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই এবং অধিক অধ্যয়ন ছাড়া এ পেশায় সফলতার কোনো সংক্ষিপ্ত রাস্তা নেই। যেহেতু এই প্রজন্ম আগামীতে এ দেশের নেতৃত্ব দেবে এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জটা তাদেরই মোকাবিলা করতে হবে তাই তাদের প্রতি আমার পরামর্শ রইল জ্ঞান অর্জন এবং প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করে তাদের প্রকৃত সমন্বয় ঘটাতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’ সবশেষে ডা. মো. মাসুদুর রহমানের ভবিষ্যত্ স্বপ্ন এ পেশায় নিজের সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করা।