প্রজন্ম সংবাদ

অন্যরকম সাফল্যের গল্প

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫৩
দেশে ক্রমে বাড়ছে শিক্ষিত মানুষের হার। আবার নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রও গড়ে উঠছে। কিন্তু এর পরেও বাড়ছে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। এই বাস্তবতার মাঝেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। এমন একজন শিক্ষার্থী মুন্সিগঞ্জের ছেলে সুজিত সুত্রধর। অনেকের মতো তিনি এইচএসসি পাসের পর ঢাকায় আসেন নিজের ভাগ্য বদল করতে। কী বিষয় নিয়ে পড়বেন, কোথায় পড়বেন, কোন সাবজেক্টে দ্রুত চাকরি হবে এমন চিন্তায় কাটতো তার সময়। এর মধ্যে এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পড়াশোনা শেষে অল্প সময়ের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের শ্যানন এয়ারপোর্টে চাকরি পেয়ে যান। সুজিত বলেন, ‘ছোটবেলায় বহু খেলনা উড়োজাহাজ বানিয়েছি। কখনও খেলনা অ্যারোপ্লেন কিনে সারা দিন তা নিয়ে সময় কাটিয়েছি। বড় হয়েও যেন এই পেশায় সম্পৃক্ত হতে পারি এই আমার স্বপ্ন ছিল। এখন শ্যানন অ্যারোস্পেসে প্রতিদিন বোয়িং, এয়ারবাস নিয়ে কাজ করছি। আমার ছোটবেলার সেই ভালোলাগা আমার সামনে স্বপ্ন নয়, বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত প্যাসেঞ্জার নিয়ে শ্যানন এয়ারপোর্টে এয়ারবাস নামে এবং উড্ডয়ন করে। আর বাংালাদেশ থেকে এসে আমি এখানে চাকরি করছি। আর এটি ছোটখাটো কোনো চাকরির বিষয় নয়, একটি ইউরোপিয়ান এয়ারপোর্টে আমি ইন্টার্নশিপ করছি যেখানে আমি একজন লাইন অ্যান্ড বেস মেনটেনেন্স অফিসার হিসেবে কাজ করছি। আমি এই সুযোগ গ্রহণ করতে কোনো রকম দ্বিধা করিনি যা আমাকে উড়োজাহাজ মেনটেনেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিইটি করার উপযুক্ত করে তুলেছে। এক্ষেত্রে আমাকে সর্বাধিক সহায়তা করেছে উত্তরায় এগার নম্বর সেক্টরের দুই নম্বর রোডে চৌদ্দ নম্বর প্লটে অবস্থিত কলেজ অব অ্যাভিয়েশন টেকনোলজি যেখানে আমি এয়ারক্রাফট মেনটেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, যাদের ফোন ৮৯৯১৩৭১।’ সুজিত সুত্রধর আরও বলেন, ‘সারাদিন অ্যারোপ্লেনের দায়িত্ব শেষ করে রাতে বাসায় ফিরে যেমন দেশের সবার কথা মনে করি, একই সাথে চোখ বন্ধ করে আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, আমি বিশ্বখ্যাত এয়ারলাইন্স লুফথানসা শ্যাননের একজন নির্বাহী। এখানে আমি এই কোম্পানির বোয়িং এয়ারবাস মেনটেনিং করছি।