আওয়ামী লীগ ধরে রাখতে ও বিএনপি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২০:১২
কসবা-আখাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সব দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তারা। কসবা-আখাউড়া দু’টি উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে জাতীয় সংসদের ২৪৬ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) আসন গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ২,৭৮,৯৯৫ জন, তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৩৫,৩২৯ জন এবং মহিলা ভোটার ১,৪৩,৬৬৬ জন। আওয়ামী লীগ এবারও আসনটি ধরে রাখার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। অপরদিকে বিএনপিও এ আসনটি পুনরুদ্বারের কাজে মাঠ পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করছে। তাছাড়া জাতীয় পার্টিও মাঠে ব্যাপক তত্পরতা চালাচ্ছে। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ্ব মো. শাহআলম এডভোকেট দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত হলেও দলের কেন্দ্রীয় নেতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌঁসুলি এডভোকেট আনিসুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান নেতা আলহাজ্ব এ.বি সিদ্দীক, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শ্যামল কুমার রায় এবং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক বিনাউটি ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তাছাড়া বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমানের নাম নিশ্চিত হলেও সাবেক সাংসদ বিশিষ্ট শিল্পপতি মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ (আবদু মিয়া), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র উপ-কমিটির সম্পাদক আলহাজ্ব মো. শাকিল ওয়াহেদ সুমন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ মোহন এবং আখাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন হাজারী বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে জাতীয় পার্টি থেকে জাপার কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাপার সভাপতি জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেলের নাম নিশ্চিত শোনা গেলেও তিনি মাঠে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। অন্যদিকে জাপার কেন্দ্রীয় নেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাপার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সেলিম মাষ্টার এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক বিনাউটি ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট হারুনুর রশিদ খান মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. মুসলেহ উদ্দিন এবং জাকের পার্টি বাস্তুহারা ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক খ.ম হারুনুর রশিদ ঢালী। এই আসনে ত্রিমুখী লড়াই হলেও মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মাঝে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে অনেকে মনে করছেন। একটি প্রবাদ রয়েছে, কসবা-আখাউড়া আসনে যে দলের এমপি নির্বাচিত হয় ওই দল সরকার গঠন করে। বিগত নির্বাচনগুলোতে ৯১ সালে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মিয়া আব্দুল্লাহ ওয়াজেদ আবদু মিয়া নির্বাচিত হলে বিএনপি সরকার গঠন করে, ৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এডভোকেট আলহাজ্ব মো. শাহআলম নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মুশফিকুর রহমান নির্বাচিত হলে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এডভোকেট আলহাজ্ব মো. শাহআলম পুনরায় নির্বাচিত হলে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।